১৩ ওভারের ম্যাচে যেরকম ব্যাটিংটা প্রত্যাশিত ছিল, সেটা এক তাওহিদ হৃদয় ছাড়া করতে পারলেন না কেউই। তানজিদ তামিম, লিটন দাস, পারভেজ ইমনদের ব্যর্থতার ম্যাচে একাই জ্বললো হৃদয়ের ব্যাট। ২৫ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৪২ রানের ইনিংস খেললেন। বাংলাদেশী ব্যাটারদের সাজঘরে পাঠানোর মতো নিয়মিতই পাকিস্তানী বোলাররা ওয়াইডের পসরা সাজালেন। ১৫ ওয়াইডসহ অতিরিক্ত দিলেন ১৭ রান। তাতেই একশ পাড় হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। ১৩ ওভার শেষে সাত উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১১ রান।
জেতার জন্য মোটেই নির্ভরযোগ্য পুঁজি নয়, তারপরও আনকোড়া পাকিস্তানী ব্যাটারদের কাজ কতটা কঠিন করতে পারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বোলিং ডিপার্টমেন্ট সেটাই দেখার।
টসে জিতে কার্টের ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। সাইবজাদা ফারহান। আহমেদ দানিয়ালের প্রথম ওভার থেকে ১০রান তুলে নিয়ে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম দিয়েছেন ভালো কিছু ইঙ্গিত। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আক্রমণে স্পিনারদের এনে কেবল বাংলাদেশকে বেধেই ফেলেননি ফারহান, একই সঙ্গে তার বোলাররা নিয়মিতই এনে দেন উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে আরাফাত মিনহাসের সহজ সরল একটা বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অফে তুলে দেন তামিম। একটু দৌঁড়ে ঠিকই বলটা লুফে নেন ফারহান। শুরুর ধাক্কা সামলে ইনিংসটা বড় করার মূল দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক লিটনের। তবে চরম অধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে আত্মাহুতির পথ বেছে নেন তিনি। আগেই যেন ঠিক করে রেখেছিলেন সাইম আইয়ুব যে বলই করুক, রিভার্স সুইপ খেলবেন। সেটা করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। সহজেই বলটা ভেঙে দেয় ২ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়কের উইকেট। পারভেজ ইমন নায়ক হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ডিপ স্কয়ারলেগ দিয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে। মিসড টাইমিংয়ে সে বল সহজেই তালুবন্দী করেন আরাফাত মিনহাস।
মাত্র ২১ রানে তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ধুকতে থাকা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন হৃদয়। তবে সেট হয়েও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি সাইফ। ১৭ বলে ১৯ রান করে সুফিয়ান মোকিমের শিকার হন এ ওপেনার। হৃদয় অবশ্য রানের গতি স্লথ হতে দেননি। এক প্রান্ত দিয়ে চার-ছয়ে ইনিংসটা এগিয়ে নিয়েছেন ভালোভাবেই। একশ ছাড়ানোর আগে অবশ্য তাকে ফিরতে হয়। ইনিংসের ৯ বল বাকি থাকতে সুফিয়ানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সিয়াম আইয়ুবকে ওয়াইড লং অনে ক্যাচ তুলে দেন। দুই বল পরে সুফিয়ান বিদায় করেন মোসাদ্দেককে। শেষ দিকে মেহেদী হাসান চার বলে আট রান করলে বাংলাদেশ পায় ১১১ রানের পুঁজি।