এটাই শেষবার। মানে ‘লাস্ট ড্যান্স’। তারপর লিওনেল মেসিকে আর কখনোই দেখা যাবে না আর্জেন্টিনার জার্সিতে।
গত মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। তখনই শোনা গিয়েছিল, কিংবদন্তিকে যথাযথ সম্মান দিয়ে বিদায় জানাতে চায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সে জন্য ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে ঘরের মাঠে অন্তত একটি প্রীতি ম্যাচে মেসিকে দলে রাখবে এএফএ। মেসি যেন ঘরের দর্শকদের সামনে থেকে বিদায় নিতে পারেন, সে জন্যই এ সিদ্ধান্তের কথা তখন শোনা গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হচ্ছে।
বুয়েনস এইরেসে ৮৫ হাজার আসনের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আগামী ৬ অক্টোবর প্রীতি ম্যাচে বেনিনের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। এই ম্যাচের জন্য গতকাল ঘোষিত আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে রাখা হয়েছে মেসিকে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই হবে তাঁর বিদায়ী ম্যাচ।
ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার কথায়ও সেটাই ফুটে উঠল, ‘আমরা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের জাতীয় দলের প্রতীক, আমাদের অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন আগামী ৬ অক্টোবর এখানে আর্জেন্টিনাতে সে যথাযথভাবে তার প্রাপ্য বিদায়টি পেতে পারে।’
বোঝাই যাচ্ছে, সেদিন আবেগে ভেসে যাবে রিভার প্লেটের মাঠ মনুমেন্তালের গ্যালারি। শুধু দর্শক কেন, মেসির হৃদয়েও কি উথাল-পাতাল স্মৃতির ঝড় উঠবে না? এএফএ কিন্তু তেমন ব্যবস্থাই করছে। মেসির বিদায়কে ‘অবিস্মরণীয়’ করে তুলতে তাঁর সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে এ ম্যাচে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁকে উৎসর্গ করা হবে বলে জানিয়েছেন তাপিয়া।
সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি বলেন, ‘লিওনেল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা কাতারে তাঁর সঙ্গে খেলা ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ এ ম্যাচে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা স্মরণীয় উপলক্ষ হতে চলেছে। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের ‘‘শেষ ট্যাঙ্গো’’ উপভোগ করতে আমরা সব আর্জেন্টাইন ও জাতীয় দলের সমর্থককে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। এরপর গত ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তখন অনেকে ভেবে নেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে হার আর্জেন্টিনার জার্সিতে হয়ে রইল মেসির শেষ স্মৃতি। কিন্তু এএফএ সেটি আর হতে দিচ্ছে না।

বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর প্রথম মাঠে নেমে আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি খেলবে বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আকাশি-সাদায় শেষবারের মতো দেখা যাবে মেসিকে। সেটা হবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ২০৮তম ম্যাচ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ খেলা ও গোল করার রেকর্ডে শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই মেসির ওপরে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২০৭) ও সর্বোচ্চ গোলের (১২৫) রেকর্ড আগেই গড়েছেন মেসি।
গত মাসে ফিফা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আর্জেন্টিনাকে ঘরের মাঠে তাদের পরবর্তী ম্যাচের দর্শক ধারণক্ষমতা অর্ধেকে (৫০ শতাংশ) নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। এতে মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ৫০ শতাংশ দর্শক ধারণক্ষমতা কমাতে হবে এএফএকে।
ক্রীড়া ইভেন্টকে রাজনৈতিক বা ক্রীড়াবহির্ভূত প্রদর্শনের কাজে ব্যবহারের কারণে এ শাস্তির মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার তুলে ধরেছিলেন। সেই ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার।’
ধারণা করা হচ্ছে, সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো এসব প্রীতি ম্যাচেই কার্যকর হবে। সেই ঘটনায় আর্জেন্টিনা দলের মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ১০ ম্যাচ, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা ৭ ম্যাচ এবং ফরোয়ার্ড থিয়াগো আলমাদা ১ ম্যাচ নিষিদ্ধ হন।