আগামী বছরের মার্চে ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিষয়টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
২০১৬ সাল থেকে ফিফার দায়িত্বে আছেন ইনফান্তিনো। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন টুর্নামেন্টের স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থার কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েন তিনি।
বিনিয়োগের এই লাভজনক স্কিমটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
ফিফার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইনফান্তিনো গত এপ্রিলেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে লড়বেন।
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, ‘স্বভাবতই তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মিস্টার ইনফান্তিনো আবারও নির্বাচনের লড়াইয়ে নামছেন।’
গত গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের পর বড় ধরনের কেলেঙ্কারি ও বিতর্কের মুখে পড়ার পর এবারই প্রথম ফিফার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলো যে, ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন।
চলতি সপ্তাহেই উয়েফার বিরুদ্ধে ইনফান্তিনো ও তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে ফিফা। মূলত ইনফান্তিনোর সেই ব্যবসায়িক পরিকল্পনার আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই উয়েফা এমনটা করছে বলে মনে করছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি নথি জমা দিয়েছে উয়েফা। সেখানে ফিফার কাছে বিভিন্ন প্রমাণ ও নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডে এ বিষয়ে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে উয়েফা।
বিবিসি স্পোর্টস জানতে পেরেছে যে, ইনফান্তিনোর বিপক্ষে একজন শক্ত প্রার্থী খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী উয়েফা। তবে কোনো চ্যালেঞ্জারকে নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি দেশের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
এদিকে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইনফান্তিনোকে সরানোর পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছে উয়েফা। কারণ এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাস করতে হলে ফিফার গঠনতন্ত্র সংশোধন করে অন্তত তিন-চতুর্থাংশ বা ১৫৯টি সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে একেবারেই অবাস্তব বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত অন্য কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সামনে আসেননি। তবে কনকাকাফ প্রেসিডেন্ট ভিক্টর মন্ট্যাগলিয়ানিকে অন্যতম শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ নভেম্বর।