Image description

দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। এবার ইমরানের সমর্থনে পাকিস্তানের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার মঈন খান।

রাওয়ালপিন্ডির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এরই মধ্যে পাকিস্তানের কয়েকজন সাবেক অধিনায়ক উন্নত চিকিৎসার দাবি তুলেছেন এবং চিঠিও দিয়েছেন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম জাভেদ মিয়াঁদাদ প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলেন। এবার তার পথ অনুসরণ করে ইমরানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন মঈন খান।

 

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় মঈন পাকিস্তান সরকারের প্রতি ইমরানকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে তার অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

 

মঈন বলেন, ‘ইমরান খান খুবই অসুস্থ। আমি পাকিস্তান সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইমরানকে যেন তার প্রাপ্য অধিকারগুলো দেওয়া হয়।’

 

পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের সব ক্রিকেটারের প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা ইমরানের সমর্থনে তাদের কণ্ঠ সোচ্চার করেন। আমরা যারা তার সঙ্গে খেলেছি, তারা তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েছেন।’

 

এর আগে ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানিয়ে পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ। সম্প্রতি ‘ন্যারেটিভস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একসময়ের সতীর্থ ইমরানের মুক্তির দাবি জানান তিনি। ইমরানকে নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেও ফেলেন মিয়াঁদাদ।

 

ইমরান ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের টেস্ট চলাকালে। ইংলিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ড সম্প্রচার বন্ধ না হলে বিরতির পর মাঠে না নামার হুমকিও দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকার সম্প্রচারও বন্ধ হয়নি, আবার পাকিস্তানও ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ায়নি।