দেশের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ঘরোয়া এই টুর্নামেন্ট নিয়ে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা বরাবরই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনী নাটকীয়তা নিয়ে গেল মার্চেই চলতি বছরে বিপিএল আয়োজন নিয়ে শঙ্কা জেগেছিল। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টের ১৩তম আসর আয়োজন নিয়ে ধোঁয়াশা জেগেছিল। এমনকি নির্বাচিত হয়ে আসার পরও বিপিএল আয়োজন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। এবার অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবেই তামিম জানালেন, নতুন করে সবকিছু গুছিয়ে আগামী বছর বিপিএল ফেরানোর পরিকল্পনা বোর্ডের।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) হোম অব ক্রিকেটে এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘এ বছর বিপিএল হচ্ছে না। আমরা একটা ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি।’
এদিকে মাঝে বিপিএল বন্ধ করে দেওয়ারও গুঞ্জন উঠেছিল। এমনকি গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, ভিন্ন কোনো নামে ঘরোয়া এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে তামিম ইকবালের বোর্ড। তবে আপাতত সেই সব পরিকল্পনা নেই বলেই স্পষ্ট করলেন তামিম।
তার ভাষ্যমতে, ‘আমাদের এটা করার শতভাগ ইচ্ছা আছে। কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি সবকিছু সঠিকভাবে করতে চাই। এতে যদি ছয় মাস বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি সেটা নেব।’
এ সময়ে গত দুই আসরের লোকসানের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন সাবেক এই অধিনায়ক। বিসিবিপ্রধান বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান করার কথা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারছি না, ততক্ষণ লোকসান করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২১ সালের পর ফের আরেকবার বিপিএল মাঠে না গড়ালেও আশা বাণীও শুনিয়েছেন তামিম ইকবাল। তার দাবি, নতুন করে গুছিয়ে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনে এরই মধ্যে কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
তামিম বলেন, ‘আমরা আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই। আগে যেটা হতো, একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। এবার আমরা যথেষ্ট সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ শেষ মুহূর্তে সরে গেলে আমাদের বিকল্প খোঁজার সময় থাকে।’
চাইলে দ্রুত কয়েকটি দল দাঁড় করানো সম্ভব হলেও সেটি করতে চান না তামিম। তার ভাষ্যমতে, ‘আমি চাইলে কালকেই পাঁচটা দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি সেটা করব না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষ্ঠু ক্রিকেট এবং বিসিবির মর্যাদা বজায় রাখা। এ জন্য যদি সমালোচনাও শুনতে হয়, আমি প্রস্তুত।’