Image description

কিছুদিন আগেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয় যে, অবশেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারছেন রোনালদো-জর্জিনা। এবারও সেটা গুজব হিসেবেই রয়ে গেলো!  তবে সেই গুজবে ভুক্তভোগী হতে হয়েছে পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপের এক সাধারণ দম্পতিকে। রোনালদোর বিয়ে হবে-এমন খবর বিশ্বাস করে ঐতিহাসিক এক গির্জার সামনে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অন্য এক দম্পতির আসল বিয়ের অনুষ্ঠানই প্রায় পণ্ড হতে বসেছিল। আর পুরো ঘটনাটি দেখে মজা পেয়েছেন খোদ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!

ঘটনাটি ঘটেছে মাদেইরা দ্বীপের প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ফুনশাল ক্যাথেড্রালে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ৮ আগস্ট এই গির্জায় গোপনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই রোনালদো ভক্ত, পর্যটক ও সাংবাদিকরা গির্জার আশপাশে জড়ো হতে শুরু করেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো সেটি রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে ছিল না। সেখানে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল ফ্রান্সপ্রবাসী পর্তুগিজ দম্পতি ফাবিও রামোস ও ফাতিমা নিকোল কুনহা তেইশেইরার।

পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে যখন পুরোনো মডেলের একটি রোলস-রয়েসে করে গির্জায় পৌঁছান কনে ফাতিমা। সেখানে থাকা শত শত রোনালদো ভক্ত তাকে জর্জিনা ভেবে বসেন। এরপর তারা গাড়িটির দিকে ছুটে যান। কনেকে নিরাপদে গির্জার ভেতরে নিয়ে যেতে গিয়ে বিয়ের দলের সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত গির্জার প্রধান যাজক ফাদার মার্কোস গনসালভেস মাইক্রোফোনে ঘোষণা দেন, এই বিয়ের সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কোনো সম্পর্ক নেই। ওই দিন গির্জাটিতে এটিই একমাত্র নির্ধারিত বিয়ের অনুষ্ঠান।

 

পরে ফুনশাল ক্যাথেড্রালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কনের গির্জায় প্রবেশ করাই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

শুধু গির্জার সামনেই নয়, আশপাশের পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলের সামনেও ভিড় করেছিলেন রোনালদোর ভক্তরা। তাদের ধারণা ছিল, হয়তো রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের অনুষ্ঠান না হলেও সেখানে হতে পারে তাদের বিয়ের সংবর্ধনা।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোনালদোর বড় বোন এলমা আভেইরো। রোনালদো নিজেই যখন কখনও বিয়ের ঘোষণা দেননি, তখন মানুষ কেন এমন খবর বিশ্বাস করছে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, গণমাধ্যমের কিছু অংশ শুধু খবর তৈরির জন্য এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।

রোনালদো অবশ্য পুরো ঘটনাটিকে বেশ মজা হিসেবেই নিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার একটি ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাঁচটি হাসির ইমোজি দিয়েছেন তিনি।