যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের একটি নথিতে মেসিকে হত্যার একাধিক পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে। একই সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ আরও কয়েকজন তারকা ফুটবলার, রেফারি ও কর্মকর্তাও হুমকি ও হয়রানির শিকার হন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম Informacion.es পুলিশের ওই নথি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিকে সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে পাওয়া হুমকিগুলোর মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলার পরিকল্পনাও ছিল।
এক ঘটনায় এক ব্যক্তি মেসিকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলেছিল, 'আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে চারটি বোমা লাগিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।'
আরেক ঘটনায় ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করে, সে আরও দুজনের সঙ্গে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে। তাদের কাছে 'নিজেদের তৈরি বোমা এবং একটি AR-15' নামের সেমি-অটোমেটিক রাইফেল রয়েছে বলেও সে জানায়। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি 'দুই দলের খেলোয়াড় এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের' ওপর হামলার কথা বলেছিল এবং বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করেছিল।
৭ জুলাই মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচকে ঘিরেও হুমকি পাওয়া যায়। X-এ এক ব্যক্তি লিখেছিল, 'আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে চারটি বোমা লাগিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দিতে যাচ্ছি।'
এ ছাড়া ম্যাচ চলাকালে আরেক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করে, স্টেডিয়ামের আবর্জনার ঝুড়িতে সে 'তিনটি বোমা' রেখে গেছে। পরে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর ও তাদের হ্যান্ডলাররা স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালান।
বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় এফবিআই ও আইপিসিসির নেতৃত্বে একটি যৌথ নেটওয়ার্ক কাজ করে। তারা সন্ত্রাসী হুমকি, খেলোয়াড়দের অনুসরণ এবং খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি পর্যবেক্ষণ করে।
এদিকে পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও বিশ্বকাপজুড়ে অনুসরণ ও হয়রানির শিকার হতে হয়। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী রোনালদোর থাকার জায়গা সম্পর্কে 'বিস্তারিত তথ্য' জানতে চাওয়া এক 'সন্দেহজনক ব্যক্তির' বিষয়ে রিপোর্ট করেন। দুই দিন পর হিউস্টন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে রোনালদোর হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে।
কানাডার টরন্টোতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে এক ব্যক্তি রোনালদোর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে দাবি করেছিল, শুধু পর্তুগিজ তারকার সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিল। মিয়ামিতেও এক ব্যক্তি রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক ব্যক্তি মাঠে ঢুকে পড়ে।
পুলিশের নথিতে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে হুমকির কথাও রয়েছে। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর এমবাপ্পে বিদ্বেষমূলক ও জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হন। প্যারাগুয়ের একজন সিনেটরও X-এ এমন একটি পোস্টে লাইক দিয়েছিলেন।
পুলিশের দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে এমবাপ্পের ছবি ব্যবহার করে তৈরি একটি পুতুল 'পুড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়'।
ম্যাচে ভুল করার কারণেও কয়েকজন খেলোয়াড় মৃত্যুর হুমকি পান। নরওয়ের আলেকজান্ডার সোরলোথ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর তিনি ও তার স্ত্রী হুমকির শিকার হন। কলম্বিয়ার জামিন্তন কাম্পাজ পেনাল্টি মিস করার পর হুমকি পান এবং নিরাপত্তার কারণে বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েকেও হুমকি দেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো ও পুরো দলও মৃত্যুর হুমকি পায়। টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে তাদের বিমানবন্দর পর্যন্ত 'বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তায়' নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ছাড়া ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের কাছে ৬ হাজারের বেশি হোয়াটসঅ্যাপ হুমকি পাঠানো হয়। ফলে বিশ্বকাপজুড়ে খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়।
সংবাদসূত্রঃ ডেইলিস্টার ইউকে