বিশ্বকাপ ফুটবলে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনা এবং টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ফিফার অন্দরে ও বাইরের তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সব বিরোধিতাকে পাশ কাটিয়ে ২০৩০ সাল থেকেই বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪-তে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।
দ্য টাইমসের এক অভ্যন্তরীণ নথির তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ জুলাই ফিফা এই বিষয়ে একটি প্রাথমিক ব্রিফিং সম্পন্ন করেছে। নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ৬৪ দলে উন্নীত করা হলে তা সম্প্রচার, স্পন্সরশিপ, আর্থিক আয় এবং সামগ্রিক ফুটবল কাঠামোর ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে একটি স্বাধীন গবেষণা পরিচালনা করা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, ১৪ আগস্ট চূড়ান্ত সংস্থা নির্বাচন করা হবে এবং আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ ইতোমধ্যে ৬৪ দলের টুর্নামেন্টের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, আর আফ্রিকা কনফেডারেশন এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ৬৪ দলের এই মেগা টুর্নামেন্ট বাস্তবে রূপ নিলে ফুটবল কূটনীতি ও টুর্নামেন্ট বিন্যাসে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটতে পারে। এমনকি ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক দেশ স্পেন ও পর্তুগালকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল পর্বে খেলার সুযোগ হারাতে হতে পারে। সব মিলিয়ে ফিফার এই যুগপৎ বাণিজ্যিক ও সম্প্রসারণ নীতি বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ধরনের বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।