Image description

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় সমর্থন আদায়ে ফিফার সদস্য দেশগুলোর সামনে বড় আর্থিক প্রণোদনা রেখেছেন। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য ২১১টি সদস্য ফুটবল ফেডারেশনকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনো সদস্য ফেডারেশনগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নতুন একটি বাণিজ্যিক কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

চিঠিতে ইনফান্তিনো লেখেন, ‘ফিফার সভাপতি হিসেবে সদস্যদের সামনে এমন যুগান্তকারী সুযোগ তুলে ধরা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আপনারা যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন তাহলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের এই প্যাকেজ কার্যকর হবে এবং আমাদের যৌথ যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।‘

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি নতুন ফিফা সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এর ২০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে।

প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল চালু হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি সদস্য ফেডারেশন সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হলে ফিফা পূর্বঘোষিত ২.৭ বিলিয়ন ডলারের ‘ফরোয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবে।

এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।

তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউয়েফা অভিযোগ করেছে, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কনকাকাফ-ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদস্য ফেডারেশনগুলোকে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। এর আগে নিজেদের ৫৫ সদস্য ফেডারেশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে উয়েফা। ফলে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ মালিকানা কাঠামো নিয়ে ফিফার এই উদ্যোগকে ঘিরে বৈশ্বিক ফুটবলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।