Image description

ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের ৩য় দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলার জাস্টিন গ্রিভস। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে যা এর আগে কোনো ক্রিকেটার করতে পারেননি, তিনি ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন।

খেলার দীর্ঘতম ফরম্যাটে বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে টানা ৫টি উইকেট মেডেন ওভার নেওয়ার অনন্য ইতিহাস গড়েছেন তিনি। অর্থাৎ কোনো রান না দিয়েই তিনি তুলে নেন ৫টি উইকেট! লাঞ্চ বিরতির আগে ও পরে একটি দুর্দান্ত স্পেল করার মাধ্যমে গ্রিভস এই অভূতপূর্ব কীর্তি গড়েন। এর পাশাপাশি এটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ারের প্রথম 'ফাইভ-উইকেট হোল' বা এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার সাফল্য। এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টানা ৪টি উইকেট মেডেন নিয়ে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। গ্রিভস এবার সেই রেকর্ডকেও পেছনে ফেললেন।

৩২ বছর বয়সী এই ক্যারিবীয় বোলার শান মাসুদ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, আমের জামাল, আলী ওসমান এবং মোহাম্মদ আব্বাসকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। ১১ ওভারে ৬টি মেডেনসহ মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। তার এই তোপেই প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

ম্যাচ বিজয়ী এই স্পেলের পর গ্রিভস জানান যে তিনি নিজের বোলিংয়ের কৌশল খুব সাধারণ রেখেছিলেন। অধিনায়ক রোস্টন চেইসের পরামর্শ মেনে সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করে যাওয়া এবং নিজের প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রাখাই ছিল তার মূল চাবিকাঠি।

জাস্টিন গ্রিভস বলেন, 'আমি যখন বোলিংয়ে আসি, অধিনায়ক রোস্টন চেইস আমাকে শুধু বলেছিলেন নিজের শৃঙ্খল বজায় রেখে কাজটা করে যেতে এবং দলের জন্য কিছু উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে। বল বেশ মুভ করছিল এবং আমি তার ফল পেয়েছি। যখনই আমার হাতে বল থাকে, দল আমার দিকে তাকিয়ে থাকে যাতে আমি দলকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে পারি। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পেয়ে আমি সত্যি ভীষণ আনন্দিত, তবে ম্যাচে এখনো আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে।'

শান মাসুদের শতকের ওপর ভর করে ৩ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে পাকিস্তান দল বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল এবং বড় লিডের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু এরপরই বিপত্তি ঘটে—জাস্টিন গ্রিভসের বলে আউট হন সাবেক পাক অধিনায়ক শান মাসুদ, আর সেখান থেকেই শুরু হয় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে এক নাটকীয় ধস।

তবে দিনশেষে পাকিস্তানও দারুণভাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায়। ৩য় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১২৬ রানে ৭টি উইকেট তুলে নেয় এবং স্বাগতিকদের লিড ১৫৫ রানের মধ্যে আটকে রাখতে সক্ষম হয়।