বিশ্বকাপ চলার মাঝেই মার্ক কুকুরেয়াকে দলে ভিড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আতলেতিকো ছেড়ে বার্সেলোনায় যেতে চাইলেও আবার আটকে আছে হুলিয়ান আলভারেসের ট্রান্সফার। এরই মাঝে ১৩৮ মিলিয়ন ইউরোয় অ্যাস্টন ভিলা থেকে মরগান রজার্সকে কিনে চমকে দিয়েছে চেলসি। আরও অনেকে রয়েছেন দল বদল কিংবা পুরোনো ক্লাবে নতুন চুক্তির অপেক্ষায়। দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।
হুলিয়ান আলভারেস
২০২৫-২৬ মৌসুমে আতলেতিকো মাদ্রিদ কোনো ট্রফি জিততে না পারায় দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেস ক্লাব ছাড়তে চান। তাকে পেতে চায় বার্সেলোনাও। কিন্তু আলভারেসকে ঘিরে যে এত বড় নাটক অপেক্ষা করছিল, তা কেউ কল্পনা করেনি।
রবার্ট লেভানদোস্কির বিকল্প হিসেবে একজন ৯ নম্বর স্ট্রাইকারের খোঁজে থাকা বার্সেলোনাকেই আলভারেসের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে দুই ক্লাবের টানাপোড়েন শুরু হয় যখন কাতালানদের আগ্রহের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় মাদ্রিদের ক্লাবটি। তারা দাবি করে, লামিন ইয়ামাল এবং পেদ্রির মতো তারকাদের জন্য বার্সা হাস্যকর প্রস্তাব দিয়েছিল। এরপর থেকে দুই পক্ষে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে আর বার্সার প্রস্তাব এখনও আতলেতিকোর চাওয়া দামের চেয়ে অনেক কম।
এই সুযোগে আগুনে ঘি ঢালতে রিয়াল মাদ্রিদ জুনের শুরুতে জানায় যে তারা আলভারেসের জন্য ১৫০ মিলিয়ন ইউরো প্রস্তাব করেছিল, যা ফিরিয়ে দিয়েছে আতলেতিকো! স্পেনের অনেকেরই ধারণা, লস ব্লাঙ্কোসদের এই বিডটি ছির শুধু বার্সেলোনাকে রাগানোর জন্য।
আর্সেনালও আলভারেসকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জেতার পর তারা ভিক্টর গিয়েকেরেসের বিকল্প হিসেবে আরও ভালো মানের ফরোয়ার্ড চায়। আলভারেস নিজেও মেত্রোপোলিতানো ছাড়তে চান। কোচ ডিয়েগো সিমিওনেও তাকে ছাড়াই নতুন পরিকল্পনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারপরও আতলেতিকোর দাবি, ‘আলভারেস বিক্রির জন্য নয়’।
এই নাটকের সমাধান হতে তাই সময় লাগবে আরও।
আইয়ুব বুয়াদি
মরক্কোর হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স আলোচনায় এসেছেন আইয়ুব বুয়াদি। অবশ্য বিশ্বকাপে আলো ছড়ানোর আগেই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো তাকে সই করানোর জন্য লড়াই করছিল, তাই বিশ্বকাপের পর তার দাম বেড়েছে হুহু করে।
আর্সেনাল, চেলসি এবং রিয়াল মাদ্রিদ লড়াইয়ে থাকলেও একটা সময় এগিয়ে ছিল পিএসজি। তবে ১৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে সই করানোর দৌড়ে এখন এগিয়ে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইলিশ মিডিয়ার অনুমান, সিটির সঙ্গে ব্যক্তিগত চুক্তিতে রাজি হয়েছেন বুয়াদি। তবে লিলের চাওয়া ১০০ মিলিয়ন ইউরো। সিটি এত টাকা খরচ করবে তো?
ইয়ান দিওমান্দে
বিশ্বকাপে নজরকাড়া আরেক তরুণ ইয়ান দিওমান্দে গত ছয় মাস ধরে ট্রান্সফার গুঞ্জনের শীর্ষে । জার্মানিতে নিজের প্রথম মৌসুমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আরবি লাইপজিগ থেকে তার বিদায় নেওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করা হচ্ছিল।
বুন্দেসলিগার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া দিওমান্দের দারুণ উইং-প্লেতে ইউরোপীয় অভিজাত ক্লাবগুলো মুগ্ধ। লিভারপুলবা পিএসজি-কেই তার সবচেয়ে সম্ভাব্য গন্তব্য মনে হচ্ছিল এক সময়। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের জন্য অলরেডদের দেওয়া ৮০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব প্রত্যাখান করে লাইপজিগ। আর তাতে মনে হয়েছিল, পিএসজির জন্য তাদের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করার পথ খুলে গেছে।
তবে, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের আইভরি কোস্টের এই আন্তর্জাতিক তারকাকে নেওয়ার আলোচনা থমকে গেছে। কারণ লাইপজিগ তার জন্য অন্তত ১০০ মিলিয়ন দাবি করছে—যদিও মাত্র ১২ মাস আগে লেগানেস থেকে তাকে সই করাতে এর পাঁচ ভাগের এক ভাগ অর্থ খরচ করেছিল তারা। তবে ১০০ মিলিয়ন ইউরোতেও নাকি আপত্তি নেই রিয়াল মাদ্রিদের। এটা বুঝতে পেরে লাইপজিগ তার দাম বাড়িয়ে দেয় ১২০ মিলিয়ন ইউরোয়! হোসে মরিনহোর রিয়াল এমন মোটা অংকেও নিতে রাজি দিওমান্দেকে।
এনসো ফের্নান্দেস
বিশ্বকাপে মিসর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তর গোল করার পরও বিশ্বকাপটা ফের্নান্দেসের স্মৃতিতে চিরকাল টিকে থাকবে ফাইনালে সেই লাল কার্ড দেখায়।
চেলসির হয়ে মাঝে মাঝে দুর্দান্ত খেললেও, পুরো মৌসুম জুড়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতা দেখানোয় ব্লুজরা তাকে দুই সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। জাবি আলোনসো কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর হয়তো তার ভাবনা বদলে থাকতে পারে।
তবে মরগান রজার্সকে ১৩৮ মিলিয়ন ইউরোয় কেনা আর অন্যান্য মিডফিল্ডারদের প্রতি তাদের আগ্রহ এটাই প্রমাণ করে যে তারা ফের্নান্দেসকে ছাড়াই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছে। তবে মরিনহো রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে কিনতে আগের মতো আগ্রহী মনে হচ্ছে না রিয়ালকে।
তাই বিশ্বকাপ ফাইনালে তার ফাউলের শিকার হয়ে পাউ কুবারসি যেভাবে বাতাসে ভেসে ছিলেন-ফের্নান্দেসের ভবিষ্যৎও এখন ঠিক তেমনই শূন্যে ভাসছে।
ব্রুনো গিমারেস
অ্যান্টনি গর্ডন এবং সান্দ্রো তোনালির বিদায়ের ধাক্কার পর অ্যাস্টন ভিলার কাছে জোহান মানজাম্বি এবং লিভারপুলের কাছে ভিক্টর মুনেজকে হারিয়েছে নিউক্যাসল। এখন ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারেসকে হারানোর শঙ্কায় প্রহর গুনছে তারা।
ম্যাগপাইদের অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সেন্ট জেমস পার্ক ছেড়ে আর্সেনালে যোগ দিতে চান। জুনের শেষের দিকে গিমারেসের জন্য আর্সেনালের দেওয়া ৫ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল নিউক্যাসল। গানাররা এখনও চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও নিউক্যাসলের ধারণা এই ব্রাজিলিয়ান তারকার মূল্য ১০ কোটি পাউন্ডের কাছাকাছি।
মাইকেল ওলিসে
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাইকেল ওলিসের অসাধারণ মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেসের নজর কেড়েছে। এই ফরাসি তারকাকে বার্নাব্যুতে আনতে রেকর্ড ২২ কোটি ৩০ লাখ ইউরো খরচ করতেও একটা সময় ভাবছিল রিয়াল। তবে দিওমান্দেকে পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকায় ওলিসেতে মোহভঙ্গ হয়েছে রিয়ালের। নতুন চুক্তিতে রাজি না হলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছাড়তে পারেন রিয়াল। তাকে পেতে চায় আর্সেনাল। তবে আজ ‘এএস’ জানিয়েছে, ভিনির বেতন বাড়িয়ে তার সঙ্গে নতুন চুক্তিতে রাজি রিয়াল।
মার্কাস রাশফোর্ড
মে মাসের দিকে মনে হয়েছিল যে মার্কাস রাশফোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। বার্সেলোনায় পুরো এক মৌসুমের লোন স্পেলে নিজের চেনা রূপ ফিরে পাওয়ার পর, সবাই ধরে নিয়েছিলেন যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তিতে থাকা ৩ কোটি ইউরো) বাই-আউট ক্লজটি সক্রিয় করবে বার্সা।
তবে মৌসুম শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে রাশফোর্ডের ইংল্যান্ড সতীর্থ অ্যান্টনি গর্ডনকে বড় অঙ্কের অর্থে দলে ভেড়ায় বার্সা। আর তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় ২৮ বছর বয়সী এই তারকাকে তারা স্থায়ীভাবে দলে রাখছে না। রাশফোর্ড এরপর বিশ্বকাপে ব্যস্ত থাকলেও, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে আসবে ইউনাইটেড। রাশফোর্ডকে সই করানোর লড়াইয়ে বেশি আগ্রহী টটেনহাম। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই-এটা নিশ্চিত হলে অন্য কোনো ক্লাবও লড়াইয়ে নামলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
রোদ্রি
বিশ্বকাপ গোল্ডেন বলের জয়ী রোদ্রির সঙ্গে আগামী মৌসুম পর্যন্তই চুক্তি আছে ম্যানচেস্টার সিটির। তাকে ৫০-৬০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে দলে ভেড়াতে অনেকটাই এগিয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
টনি ক্রুস ও লুকা মদ্রিচের বিদায়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মাঝমাঠের সমস্যা সমাধানের জন্য গত ১২ মাস ধরে নিয়মিতভাবে রোদ্রির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।
রিয়াল মাদ্রিদের হাই-প্রোফাইল ফ্রি এজেন্টদের দলে নেওয়ার ট্রেন্ড দেখে মনে হচ্ছিল তারা ২০২৭ সালে রোদ্রির দিকে হাত বাড়াবে। তবে টানা দুই মৌসুম ট্রফিহীন থাকার পর বার্নাব্যুর কোষাগার খালি করে হলেও রোদ্রির জন্য এবার তারা আগেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
মোহাম্মদ সালাহ
আশ্চর্যজনকভাবেই বেশ কয়েকজন তারকা ফ্রি এজেন্ট এখনও কোনো ক্লাব পাননি, যাদের অন্যতম জন স্টোনস, লিওন গোরেৎস্কা এবং দুসান ভ্লাহোভিচ। কোন ক্লাব না থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নামটি নিঃসন্দেহে মোহাম্মদ সালাহ, যিনি লিভারপুল থেকে আবেগঘন বিদায়ের পর নতুন ক্লাব খুঁজছেন।
ধারণা করা হচ্ছিল যে সালাহ সৌদি প্রো লিগের কোনো ক্লাবে যোগ দেবেন। তবে ৩৪ বছর বয়সী সালাহ থেকে যাচ্ছেন ইউরোপেই। তুরস্কের ক্লাব বেসিকতাস দলে ভিড়িয়েছে তাকে। পাশাপাশি তারা আল হিলাল থেকে আনতে চায় দারউইন নুনেসকেও।