Image description

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়ার বেদনার পর এবার আইনি লড়াইয়ে নামতে চলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA)। টুর্নামেন্ট চলাকালীন লিওনেল মেসি ও পুরো আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাইবার আক্রমণ, ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং ভুয়া খবর (ফেক নিউজ) ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে কড়া মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।

আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে মেসিদের কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ আইনজীবী দল গঠন করেছে এএফএ।

মূলত রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারানোর পর প্রতিপক্ষ দলের কোচ ও খেলোয়াড়েরা প্রকাশ্যে ফিফার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুললে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। যদিও ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অনভিপ্রেত বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। 

পরবর্তীতে ফাইনাল ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে লেয়ান্দ্রো পারেদেসের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজসহ বেশ কয়েকজন আর্জেন্টাইন তারকা খেলোয়াড়ের আচরণ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ফাইনালের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে কৃত্রিমভাবে বিকৃত (এডিটেড) ছবি, বিতর্কিত ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আর্জেন্টিনা দল ও অধিনায়ক লিওনেল মেসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছে এএফএ।

বর্তমানে এএফএ-র আইনজীবী দল ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো স্ক্যান করে ভুয়ো পোস্ট, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেবল বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করা মূল কারিগররাই নন, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব সাধারণ ব্যবহারকারী এসব ফেক নিউজ ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার করে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করেও আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।