Image description

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর সংস্থাটির নবগঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট উপ-কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তামিম ইকবাল। বিসিবি সভাপতি হিসেবে তামিমই আইসিসিতে বাংলাদেশের বৈধ প্রতিনিধি, এই প্রসঙ্গে থাকল না আর কোন সন্দেহের অবকাশ। খারিজ হয়ে গেল সব অভিযোগ।

জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত বিসিবি’র পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয় সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাড-হক কমিটি গঠনের পর তিন মাসের ভেতর নির্বাচিত নতুন পর্ষদের কাছে বিসিবি’র পরিচালনার দায়িত্ব প্রত্যার্পণ করা হয়, যেখানে তামিমই নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে বিসিবি প্রধানের চেয়ার অক্ষুণ্ণ রাখেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে এই পালাবদলের ব্যপারটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে কি না সেটা দেখার জন্য আইসিসি দুজন পর্যবেক্ষককে পাঠায় ।

ডক্টর মোহাম্মদ মোসাজে ও তাভেঙ্গাওয়া মুকুলানি জুন মাসে বাংলাদেশস সফর করেন এবং বিগত সময়ে বোর্ডে থাকা সাবেক পরিচালকদের সঙ্গেও কথাবার্তা বলেন। এডিনবার্গে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় আলোচ্য বিষয়গুলোর ভেতর বিসিবি নির্বাচনের বৈধতার প্রসঙ্গটিও ছিল। সভা শেষে আইসিসি জানিয়েছে,তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত সভাপতিকে পূর্ণ সদস্য পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে। এর মাধ্যমে বিসিবি’র নির্বাচন ও নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পরিচালনা পর্ষদও পেল বৈধতা, ধোপে টিকল না সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাকি কান্না। প্রায় কাছাকাছি পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড সরকার ভেঙ্গে দেয়ার পর নতুন করে নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিকে আইসিসির বোর্ড সভার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায়। একই সভায় মরিশাসকে আইসিসির ১১১তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

তামিমকে শুধু স্বীকৃতিই দেয়নি আইসিসি, তাকে নতুন একটি উপ-কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভায় দুটো বিষদ উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি সুশাসন পর্যালোচনা কমিটি ও অন্যটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটি। তামিমকে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ডক্টর রুডি ভ্যান বিউরেন (ক্রিকেট নামিবিয়া), দেবজিৎ সাইকিয়া (বিসিসিআই), রিচার্ড গৌল্ড (ইসিবি) ও টড গ্রিনবার্গ (সিএ)।

বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছে আইসিসি। ১৪ দলের আসরে আগের কাঠামো অনুযায়ী ৭ দল দুটো গ্রুপে ভাগ হয়ে গ্রুপ ভিত্তিক সিঙ্গেল লিগে একে অন্যের বিপক্ষে খেলার কথা। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ ৩ দল নিয়ে হওয়ার কথা ছিল সুপার সিক্স। নতুন নিয়মে বিশ্বকাপে খেলতে আসা র‍্যাংকিংয়ের সবচেয়ে নিচের ৩ দল, ১২তম, ১৩ তম ও ১৪ তম দলের ভেতর হবে সুপার সিরিজ। শীর্ষ দল যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। এই ১২ দলকে ভাগ করা হবে ২ ভাগে, ৬ দলের প্রতিটি গ্রুপকে। এখানেও সিঙ্গেল লিগ, প্রতি গ্রুপে প্রতিটি দল সবার সঙ্গে একবার করে খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ ৩ দল ও দুই গ্রুপ মিলিয়ে সেরা চতুর্থ হওয়া দল, সব মিলিয়ে ৭ দল খেলবে সুপার সেভেন রাউন্ডে। সুপার সেভেনে আবার সবার সঙ্গে সবার খেলা হবে, এই রাউন্ডের শীর্ষ ৪ দল যাবে সেমিফাইনালে। টেবিলের ১ নম্বরে থাকা দল খেলবে চতুর্থ দলের বিপক্ষে, দ্বিতীয় খেলবে তৃতীয়ের সঙ্গে।

আগের পদ্ধতিতে সেমিফাইনালের আগে ম্যাচ সংখ্যা হয় ৫১, নতুন পদ্ধতিতে ম্যাচ সংখ্যা হয় ৫৪। আইসিসি বলছে, এতে করে ম্যাচ বাড়লেও প্রতিদ্বন্দিতাহীন এবং অর্থহীন (ডেড-রাবার) ম্যাচের সংখ্যা কমে আসবে, ‘পুরো ইভেন্টজুড়ে প্রতিযোগিতার আমেজ আরও বাড়িয়ে তুলতে এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে রাউন্ড ১ এবং রাউন্ড ২-এর ম্যাচগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি থাকবে। এরপর অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ 'সুপার ৭' ধাপে যোগ্যতা অর্জনকারী ৭টি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে’, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইসিসি।

নতুন এই পদ্ধতির চূড়ান্ত কাঠামো ও সূচী, সবকিছুই পাকাপাকিভাবে ঠিক করা হবে সেপ্টেম্বরে আইসিসির বৈঠকে, যখন আইসিসির ভবিষ্যত সফরনামা বা ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামস (এফটিপি) চূড়ান্ত করা হবে।