Image description

বিশ্বকাপে দুজনের গোলসংখ্যাই সমান—আটটি। তবু সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে গেছেন কিলিয়ান এমবাপে। অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ফিফার নির্ধারিত টাইব্রেকিং নিয়ম। সেই নিয়মেই এখন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ফরাসি এই তারকা।

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ১৪ মিনিটে গোল করেন এমবাপে। এই গোলেই চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে। একই সংখ্যক গোল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিও। তবে গোল সমান হলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে দেখা হয় কে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন। এই হিসাবেই এমবাপে এগিয়ে আছেন।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপে সতীর্থদের দিয়ে তিনটি গোল করিয়েছেন। এর মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে উসমান দেম্বেলের করা গোলেও অ্যাসিস্ট ছিল তার।

অন্যদিকে, মেসি এখন পর্যন্ত একটি মাত্র অ্যাসিস্ট করেছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে ক্রিস্তিয়ান 'কুটি' রোমেরোর গোলে সহায়তা করেছিলেন তিনি। তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মেসির কর্নার থেকে আসা বলটি অ্যাসিস্ট হিসেবে গণনা করা হয়নি। কারণ, ফিফা গোলটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।

ফিফার নিয়মে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই সমতা থাকলে তৃতীয় টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় খেলোয়াড়ের মাঠে কাটানো মোট সময়। সে ক্ষেত্রে যে খেলোয়াড় কম সময় মাঠে থেকে একই সংখ্যক গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনিই গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জিতবেন।

বর্তমানে এমবাপে বিশ্বকাপে মোট ৫৬৪ মিনিট খেলেছেন। অন্যদিকে, মেসি খেলেছেন ৪৬৫ মিনিট। তাই অ্যাসিস্টেও যদি দুজন সমান হতেন, তাহলে মাঠে খেলা সময়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অবশ্য শুধু মেসি ও এমবাপেই নন, আরও কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড সাত গোল নিয়ে তাদের পিছু নিয়েছেন। আর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ছয় গোল করে রয়েছেন তার ঠিক পরেই।