Image description

উজবেকিস্তানে সহপাঠীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে ল্যাপটপের আঘাত ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন ভারতের কেরালার ২২ বছর বয়সী এক মেডিক্যাল ছাত্রী। ঘটনার পর অভিযুক্ত সহপাঠীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে কেরালা পুলিশ। একই সঙ্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, শুধু ল্যাপটপের আঘাত নয়, মৃত্যুর আগে তার ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কেরালার মালাপ্পুরামের বাসিন্দা। তিনি নিহত ছাত্রীর সহপাঠী। দুজনই উজবেকিস্তানের একটি মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন এবং একই হোস্টেলে থাকতেন।

কেরালা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিনুকুমার টি বলেন, বিদেশে অপরাধ সংঘটিত হলেও দেশে মামলা করার আইনি সুযোগ রয়েছে। এ কারণে বুধবার (৮ জুলাই) কেরালায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলাপ্পুঝা মেডিক্যাল কলেজে নিহত ছাত্রীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, ভারতীয় দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উজবেকিস্তান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সেখানে অভিযুক্তের বিচার হলে কেরালার মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্যথায় কেরালা পুলিশই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে উজবেকিস্তানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নিহত ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করেছে, তার শরীরে অসংখ্য গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ আনতে উজবেকিস্তানে যাওয়া এক স্বজন জানান, সেখানকার তদন্তকারীরা তাদের জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে ওই ছাত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন ও বর্বর মারধর চালানো হয়েছিল। তাদের দাবি, শুধু ল্যাপটপ দিয়ে মাথায় আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়নি।

পরিবারের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত সহপাঠী দীর্ঘদিন ধরে নিহত ছাত্রীকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতেন। এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থীও অবগত ছিলেন বলে তারা দাবি করেছেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, অভিযুক্তের বাবা-মা সরকারি চাকরিজীবী এবং তার ভাই একজন চিকিৎসক। উজবেকিস্তানে বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো কারণে তিনি ছাড় পেয়ে গেলে যেন পার পেয়ে যেতে না পারেন, সে কারণেই কেরালায় হত্যা মামলা করা হয়েছে এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে ভারতে প্রত্যর্পণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে