আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর মিসরের বেঞ্চে কী ঘটেছিল, তা টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়নি। তবে পরে প্রকাশিত একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান উত্তেজিত অবস্থায় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তিনি দুই হাত ক্রস করে ফিফার স্বীকৃত বর্ণবাদের অভিযোগ জানানোর আন্তর্জাতিক সংকেত দেন। তবে সেই অভিযোগ মেসির বিরুদ্ধে ছিল কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মিসরের বেঞ্চে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা। ঠিক সেই সময়ের একটি ভিন্ন অ্যাঙ্গেলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে দেখানো হয়নি।
ভিডিওতে দেখা যায়, মিসরের কোচিং স্টাফের কয়েকজন রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছেন। কেউ আবার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত ছিলেন প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং তার যমজ ভাই ও সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান।
এ সময় মেসি দুই হাত ছড়িয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান এবং কী হয়েছে, তা জানতে চান। এরপর মেসি ও হোসাম হাসানের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা হয়। সেই আলোচনার মাঝেই হোসাম হাসান দুই হাতের কবজি ক্রস করে 'এক্স' আকৃতির একটি সংকেত দেখান, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে বর্ণবাদ বা বৈষম্যের অভিযোগ জানানোর ফিফা-স্বীকৃত সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে ভিডিওতে যতটা বোঝা যায়, এই সংকেত মেসিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। বরং এর আগেই কোনো একটি ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন হোসাম হাসান। ঠিক কী ঘটেছিল বা কেন তিনি এই অভিযোগের ইশারা করেছিলেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় ম্যাচের ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে বর্ণবাদের অভিযোগ জানানোর সংকেত নিয়ে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেননি।
ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে হোসাম হাসানের দেখানো 'এক্স' সংকেত। অনেক দর্শকের কাছেই এটি অপরিচিত ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি কোনো সাধারণ প্রতিবাদের ভঙ্গি নয়।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে সম্ভাব্য বর্ণবাদ বা বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠলে খেলোয়াড়, কোচ কিংবা ম্যাচ কর্মকর্তারা এই 'এক্স' সংকেত ব্যবহার করে বিষয়টি রেফারির নজরে আনতে পারেন।
২০২৪ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে ফুটবলে বর্ণবাদ ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে এই ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে একই বছর কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।
তবে এই সংকেত দেখানো মানেই ম্যাচ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। ফিফার নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী রেফারি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে পারেন। প্রয়োজন হলে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা, দুই দলকে মাঠের বাইরে পাঠানো কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণারও সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েই আগে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। সেই ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আর্জেন্টাইন ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানিকে ঘিরে একটি বিতর্কিত ঘটনার পর প্রেস্টিয়ানি সমকামীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।
তবে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে হোসাম হাসানের দেখানো সংকেতের পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চললেও অভিযোগের বিষয়বস্তু এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।