Image description

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অস্থায়ী সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

 

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অবশ্য তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সেই আলোচনার সফলতা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা (মার্কিন প্রতিনিধিরা) আলোচনা করতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা কেবল তাদের সময় নষ্ট করছে।’

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, বারবার হামলা ও উত্তেজনার কারণে এর আগেও দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। তবে ন্যাটোতে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তার বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়ে গেছে।

নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি ইরানিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করতে চান না। এ সময় তিনি ইরানিদের ‘অসুস্থ মানুষ’ বলে মন্তব্য করেন।

ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি শেষ হয়ে গেছে। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করতে চাই না। তারা নোংরা মানুষ। তারা অসুস্থ মানুষ। তাদের নেতৃত্বও মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষদের হাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয় মাত্র। তারা মিথ্যাবাদী। আমরা একটি চুক্তি করি… সবাই একমত হয় যে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। কিন্তু চুক্তি করার পর তারা বাইরে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে এবং বলে, আমরা এ বিষয়ে কখনো আলোচনা করিনি।’

‘তাদের মধ্যে কিছু একটা সমস্যা আছে। তারা উন্মাদ আচরণ করছে। আমার বিবেচনায়, এটি শেষ হয়ে গেছে’, যোগ করেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘ধমক ও জবরদস্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে। এতে কোনো ফল আসবে না। আমরা নত হব না।’

গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান ৯ জুলাই শেষ হলে ওয়াশিংটন-তেহরান চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। খামেনির জানাজাকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি সময় যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

প্রস্তাবিত ওই আলোচনায় সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়।