ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপে যখন ক্রীড়াঙ্গন সরগরম, তখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই হতাশার গল্প লিখল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। ফলে ২৫ রানের হারে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। নাহিদ রানার ঐতিহাসিক ৬ উইকেটও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশকে।
সোমবার (৬ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এক সময় ৮ উইকেটে মাত্র ৭০ রান তুলেছিল তারা। কিন্তু শেষ দুই উইকেটে ইনোসেন্ট নিয়ামহুরি ও রিচার্ড এনগারাভার ৭১ রানের জুটিতে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা।
জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন ইনোসেন্ট নিয়ামহুরি। রিচার্ড এনগারাভা করেন ২৭ রান। এছাড়া ইনোসেন্ট কাইয়া ২৬, বেন কারান ১৮ এবং ক্লাইভ মাদান্দে ২ রান করেন। ক্রেইগ এরভিন, ওয়েসলি মাধেভেরে ও ব্র্যাড ইভান্স ব্যর্থ হন।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ইতিহাস গড়েন নাহিদ রানা। ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেন এই পেসার। তাসকিন আহমেদ নেন দুটি উইকেট। একটি করে উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোসাদ্দেক হোসেন।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ৬ বলে ৮ রান করে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। পরের ওভারেই ৭ বলে ৩ রান করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সাজঘরে ফেরেন। এরপর ১০ বলে ৬ রান করে আউট হন সৌম্য সরকার। মাত্র ১০ ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
বিপর্যয়ের মধ্যে তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ৪৯ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগান। তবে ৫৮ বলে ২৫ রান করে হৃদয় ফিরতেই আবার ধস নামে। এরপর ৭ বলে ৩ রান করে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান নুরুল হাসান সোহান। তবে ডিআরএস না থাকায় বিতর্কিত এক এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে ৪৪ বলে ৩১ রান করে তাকে ফিরতে হয়। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা। শেষদিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ চেষ্টা করলেও ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১১৬ রানেই থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস।
ম্যাচ শেষে পরাজয়ের দায় স্বীকার করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু জায়গায় আরও উন্নতি করতে পারি। তারা ৮ উইকেট হারিয়েও যেভাবে ভালো জুটি গড়ে রান বের করেছে, সেখানে আমাদের দুর্বলতা ছিল।’
নাহিদ রানার প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, ‘নাহিদ রানা গত কয়েক সিরিজে দারুণ বল করছে। আজ সে ৬টি উইকেট নিয়েছে। সে যদি এটি চালিয়ে যেতে পারে, তবে তা দলের জন্য ভালো হবে। বল হাতে আমাদের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে শুরুর ১০ ওভারে জুটি গড়তে পারলে আরও ভালো করতে পারব আমরা। দায়িত্ব নিয়ে ভালো খেলতে হবে। ১৪২ রান এই কন্ডিশনে খুব সহজ নয়, তবে জয় পেতে হলে সবার আগে আমাদের জুটি গড়ার দিকে নজর দিতে হবে।’
এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। একই মাঠে আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। সিরিজে টিকে থাকতে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প থাকবে না।