জাপান বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু মানুষের দেশ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। শতবর্ষ পার করেও সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করা বহু মানুষের বাস জাপানে। এর অন্যতম প্রধান কারণ— তাদের সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। বিশেষ করে জাপানি নারীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার থাকে, যা শরীরকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সে কারণে জাপানিদের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার মূলে রয়েছে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পরিমিত আহারের অভ্যাস, যার মধ্যে তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, সয়া পণ্য, সবুজ শাকসবজি, মিষ্টি আলু এবং গ্রিন টি অন্যতম। এ ছাড়া 'হারা হাচি বু' নীতি অনুসরণ করে ৮০ শতাংশ পেট ভরে খাওয়ার অভ্যাস তাদের সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি।
এসব খাবারে রয়েছে প্রোবায়োটিক, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা হজমশক্তি ভালো রাখা থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
আর গাঁজন করা বাঁধাকপি বা ফারমেন্টেড ক্যাবেজ জাপানের জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি। এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া কুজু গাছের শিকড় থেকে তৈরি এ উপাদান জাপানি রান্নায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ এটি বিভিন্ন স্যুপ ও সস ঘন করতে ব্যবহৃত হলেও হজমের সমস্যা কমানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
আর কুকিচা চা গাছের ডাল ও কাণ্ড দিয়ে তৈরি কুকিচা চায়ে সাধারণ গ্রিন টির তুলনায় ক্যাফিনের পরিমাণ কম। কারণ এতে রয়েছে বিভিন্ন খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন, যা শরীরকে সতেজ রাখতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আবার ফারমেন্টেড সয়াবিন থেকে তৈরি মিসো স্যুপ জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার। কারণ এতে রয়েছে প্রোটিন, প্রোবায়োটিকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। প্রতিদিন নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মিসো স্যুপ খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তবে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাপানি প্লাম গাঁজন করে তৈরি উমেবোশি স্বাদে টক-নোনতা হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। কারণ এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক, যা হজমে সহায়তা করতে পারে। এর পাশাপাশি এটি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে অনেকেই এটি বেছে নেন।
শুধু এই খাবার খেলেই কি দীর্ঘায়ু সম্ভব? কখনোই নয়। দীর্ঘায়ুর পেছনে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার নয়, বরং সম্পূর্ণ জীবনযাপন পদ্ধতিই গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ থাকতে প্রয়োজন—
* সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
* নিয়মিত শরীরচর্চা
* পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম
* মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
* ধূমপান ও অতিরিক্ত মদপান এড়িয়ে চলা এবং
* নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা।