Image description

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ভুল করেনি ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতে শেষ ৩২ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপসেরা হলো কার্লো আনচেলত্তির দল। মায়ামিতে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান মাতেউস কুনিয়া। ম্যাচের শেষ ভাগে বদলি নেমে ব্রাজিলের জার্সিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাঠে ফেরেন নেইমার।

 

ব্রাজিলের জন্য ম্যাচের সমীকরণ ছিল পরিষ্কার। হার এড়ালেই শেষ ৩২ নিশ্চিত, আর জয় পেলে গ্রুপসেরা হওয়ার সম্ভাবনা আরও শক্ত। সেই হিসাবকে শুরুতেই সহজ করে দেন ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৭ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণ থেকে ভুল বের করে আনে ব্রাজিলের চাপ। রাফিনিয়ার জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া রায়ান স্কট ম্যাককেনার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন। এরপর বল বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুসের দিকে। সামনে শুধু গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান। ঠান্ডা মাথায় তাঁকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

 

শুরুতেই গোল হজমের পর স্কটল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি। বরং দুই প্রান্ত দিয়ে ব্রাজিল বারবার তাদের রক্ষণকে চাপে ফেলে। রায়ান ডান দিকে গতি ও চাপ দিয়ে নজর কাড়েন, আর বাঁ দিকে ভিনিসিয়ুস ছিলেন পুরো ম্যাচের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুখ।

 

প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়ুস আরেকবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল নেওয়ার সময় ফাউল হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তে স্কটল্যান্ড কিছুটা বেঁচে গেলেও বিরতির আগে আবার ধরা পড়ে তাদের রক্ষণ।

 

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও বল হারায় স্কটল্যান্ড। সুযোগ বুঝে দ্রুত আক্রমণ গড়ে ব্রাজিল। পেছনের পোস্টে জায়গা নেওয়া ভিনিসিয়ুস হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। এতে বিরতিতে ব্রাজিল এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। স্কটল্যান্ডের জন্য তখন ম্যাচে ফেরার কাজটা প্রায় পাহাড়সম কঠিন।

 

দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। কিয়েরান টিয়ার্নির ক্রস থেকে স্কট ম্যাকটমিনের হেড আলিসনের হাতে জমা পড়ে। এরপর লুইস ফার্গুসনের ফ্রি-কিক এবং ম্যাকটমিনের আরেকটি হেডও সামাল দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক। কিন্তু এগুলো ব্রাজিলকে সত্যিকারের চাপে ফেলার মতো ছিল না।

 

৬০ মিনিটে ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেয় ব্রাজিল। দ্রুতগতির আক্রমণে স্কটল্যান্ড রক্ষণ ফাঁকা হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কুনিয়া। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে চলে যায় আনচেলত্তির দলের হাতে।

 

এরপর ম্যাচের আবেগের মুহূর্ত আসে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে। কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে দেখা গেল তাঁকে। পুরো স্টেডিয়ামে তখন ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ চোট আর অপেক্ষার পর নেইমারের এই ফেরাটা ব্রাজিলের জন্য শুধু মাঠের পরিকল্পনায় নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় খবর।

শেষ দিকে ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিকের চেষ্টা করেছেন। তাঁর একটি শট দারুণভাবে ঠেকান অ্যাঙ্গাস গান। নেইমারের কর্নার থেকে গাব্রিয়েল মাগালিয়েসও সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে স্কটল্যান্ডের রক্ষণ সেটি আটকে দেয়। ব্রাজিল আর গোল পায়নি, কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি একবারও।

 

এই জয়ে তিন ম্যাচে ব্রাজিলের পয়েন্ট হলো ৭। একই সময়ে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে মরক্কোও ৭ পয়েন্টে পৌঁছায়। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকল ব্রাজিল। মরক্কো দ্বিতীয় দল হিসেবে এগোল। স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে। তাদের শেষ ৩২ ভাগ্য এখন সেরা তৃতীয় দলগুলোর হিসাবের ওপর নির্ভর করবে। হাইতি কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে।

 

গ্রুপ ‘সি’-এর চূড়ান্ত অবস্থান

 দল  ম্যাচ  পয়েন্ট  গোল ব্যবধান  অবস্থা
 ব্রাজিল  ৩  ৭  +৬ গ্রুপসেরা, শেষ ৩২ নিশ্চিত
 মরক্কো  ৩  ৭  +৩ দ্বিতীয়, শেষ ৩২ নিশ্চিত
 স্কটল্যান্ড  ৩  ৩  -৩ সেরা তৃতীয় দলের অপেক্ষায়
 হাইতি  ৩  ০  -৬ বিদায়

 

ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি ভিনিসিয়ুসের ফর্ম। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। মরক্কো, হাইতি, এরপর স্কটল্যান্ড, প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে তিনি প্রমাণ করছেন, এই ব্রাজিল আক্রমণের প্রধান মুখ এখন তিনিই। রাফিনিয়ার চোট, নেইমারের ধীরে ফেরা এবং আক্রমণভাগের ভারসাম্যের প্রশ্নের মাঝেও ভিনিসিয়ুসের ধারাবাহিকতা আনচেলত্তির দলের জন্য বড় শক্তি।

 

স্কটল্যান্ডের জন্য রাতটি হতাশার। ব্রাজিলের বিপক্ষে ইতিহাস বদলানোর সুযোগ ছিল, কিন্তু রক্ষণভাগের ভুল তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ ওঠার স্বপ্ন এখন আর পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেই।

 

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ এখন সত্যিকারের শেষ ৩২-এর পথে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্রয়ের পর যে প্রশ্ন উঠেছিল, হাইতির বিপক্ষে জয় ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই দাপুটে পারফরম্যান্স সেই প্রশ্ন অনেকটাই কমিয়েছে। আনচেলত্তির দল এখন শেষ ৩২-এ যাচ্ছে গ্রুপসেরা হিসেবে, সামনে আরও বড় পরীক্ষা।