বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করে অনন্য ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। তবে এই গৌরবোজ্জ্বল রাতের আলোতেও এক বড় বিতর্কের ছায়া পড়েছে। ম্যাচের একপর্যায়ে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডারের ওপর করা মেসির একটি ক্ষিপ্র ও বিপজ্জনক ফাউলকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বে। ফুটবল ভক্ত, ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এখন প্রশ্ন তুলছে—এমন একটি ফাউল করার পরও লিওনেল মেসি কীভাবে অন্তত একটি হলুদ কার্ড দেখা থেকেও বেঁচে গেলেন?
ম্যাচ চলাকালীন একটি বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বেশ আনাড়িভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বলের নাগাল না পেয়ে মেসির বুটের স্টাড সরাসরি আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির পায়ের কাফ পেশির পেছনের অংশে আঘাত করে। ফাউলটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে, ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকের মতেই এটি সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার
মতো অপরাধ ছিল।
আলজেরিয়াকে ফ্রি-কিক দিলেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-ও এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেনি। ফাউলটির পরপরই মেসি অবশ্য মান্দির কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন, কিন্তু কার্ড না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ফুটবল দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বড় খেলোয়াড়রা কি বাড়তি সুবিধা পান?
ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এফসির বিশেষ টকশোতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ফুটবল বিশ্লেষক আলে মোরেনো এবং নেদুম ওনোহা। তাদের দুজনের মতেই এটি স্পষ্ট লাল কার্ড ছিল। মোরেনো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনাটি ফুটবল দুনিয়ার সেই প্রচলিত বিতর্ককেই আবার উসকে দেয় যে—বড় তারকা খেলোয়াড়রা মাঠে সবসময়ই রেফারিদের কাছ থেকে এক ধরনের বিশেষ বা পক্ষপাতমূলক সুবিধা পেয়ে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়। একজন সমর্থক লিখেছেন, মেসি একটা হলুদ কার্ডও পেল না, এটা স্রেফ পাগলামি। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, এটা কীভাবে হলুদ কার্ড হয় না, তা আমার মাথায় ঢুকছে না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হলেও এটি নিশ্চিতভাবেই কার্ড পাওয়ার মতো ফাউল ছিল।
ভিএআর-এর নীরবতার পেছনে কি অন্য কোনো কারণ?
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই রেফারিরা বেশ কঠোরতা দেখিয়েছিলেন এবং ৩টি লাল কার্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলে তিনজন খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞা পোহাতে হচ্ছে। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞের ধারণা, টুর্নামেন্টের শুরুতেই কার্ডের বন্যা বয়ে যাওয়া রুখতে রেফারিদের হয়তো কিছুটা নরম বা সহনশীল হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর সেই সুবাদেই হয়তো বেঁচে গেছেন মেসি।
কার্ড না পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তির
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি আর্জেন্টিনার জন্য এক বিশাল স্বস্তি এনে দিয়েছে। কারণ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্টে যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হয়। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা নকআউট পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাদের সেরা খেলোয়াড়কে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে দেখতে চাইবে না।