আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে মাঠ কাঁপিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা দলের এই জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের এই দুর্দান্ত জয়ে মেসির অবিশ্বাস্য ভূমিকার পর, স্কালোনি তাঁর মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। মেসির এই পারফরম্যান্সের প্রশংসা করার মতো কোনো উপযুক্ত শব্দ খুঁজে না পেয়ে তিনি সরাসরি বলেন, ‘ও যেদিন আর খেলবে না, সেদিন আমরা ওকে খুব মিস করব।’
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি তাঁর আবেগের কথা প্রকাশ করেন। স্কালোনি বলেন, ‘আমার বলার মতো কোনো শব্দ নেই। আমি ওকে অভিনন্দন জানালাম, জড়িয়ে ধরলাম এবং বললাম যে আমি ওকে খুব ভালোবাসি। কারণ, ওকে নতুন করে আর কী বলব, তা আমি জানি না। ও যে গোলগুলো করে, শুধু সেটির জন্য নয়, ও মাঠে বাকিদের মধ্যে যে শক্তি ছড়িয়ে দেয়, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ও যেদিন আর আমাদের মাঝে থাকবে না, সেদিন আমরা ওকে খুব মিস করব। তাই এখন ওকে উপভোগ করাই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।’
কানসাস সিটির এই ৩-০ গোলের জয় এবং জাদুকরী হ্যাটট্রিক মেসিকে ১৬টি গোল নিয়ে কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়েছে।
মেসির এই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্কালোনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, মেসি সবাইকে প্রতিনিয়ত অবাক করলেও ফুটবলপ্রেমীদের তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এমন পারফরম্যান্সে অভ্যস্ত করে তুলেছেন। স্কালোনি বলেন, ‘এমনটা নয় যে আমি এটা কল্পনা করতে পারিনি। ও গত ২০ বছর ধরে একই কাজ করে আসছে। আমার মনে হয়, শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকরাই নয়, ফুটবল দুনিয়ার সব মানুষই এখন স্রেফ ওর খেলা দেখতে চায়।’
ম্যাচের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে কোচ তাঁর দলের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তবে ৩-০ ব্যবধানের এই ফল ম্যাচটিকে সাধারণের চোখে যতটা সহজ দেখাচ্ছে, মাঠের লড়াইটি আসলে ততটা সহজ ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
স্কালোনি বলেন, ‘ফলাফল দেখে ম্যাচটিকে সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু এটি বেশ কঠিন একটি ম্যাচ ছিল। অনেক নাটকীয়তা ছিল ম্যাচটিতে। এটি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ছিল এবং আলজেরিয়া একটি ভালো দল। ওরা যখন ভালো খেলছিল, আমরা তখন রক্ষণ সামলেছি। আমাদের বুঝতে হবে যে প্রতিপক্ষ দলটিও মাঠে জেতার জন্যই খেলে। আপনি সবসময় বল নিজের পায়ে রাখতে পারবেন না কিংবা প্রতিপক্ষকে সবসময় চেপেও রাখতে পারবেন না। দলে সবসময়ই কিছু না কিছু উন্নতির জায়গা থাকে, তবে যখনই দলের কঠিন পরিশ্রম করার প্রয়োজন হয়, ছেলেরা সবসময় নিজেদের সেরাটা দেয়।’