দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ হোসেন ইমনের সেঞ্চুরিতে আবাহনীর বিপক্ষে বড় পুঁজি গড়ে বৃষ্টি আইনে ৬৩ রানের জয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে সাদা-কালোরা।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৪০৬ রান তোলে মোহামেডান। বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবাহনী ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করার পর বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি আইনে এগিয়ে থাকায় জয় পায় মোহামেডান।
এই জয়ে ২০০৯-১০ মৌসুমের পর প্রথমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতল মোহামেডান। একই সঙ্গে ডিপিএল লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পরও এটি তাদের প্রথম শিরোপা। আবাহনীর টানা চতুর্থ শিরোপা জয়ের স্বপ্নও ভেঙে দিল তারা।
মোহামেডানের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন বিজয় ও ইমন। শুরুতে নাঈম শেখ দ্রুত ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে ২৪৮ রানের বিশাল জুটি গড়েন দুজন। ইমন ১১৬ বলে ১৫০ রান করেন ১০ চার ও ১১ ছক্কায়। বিজয়ের ব্যাট থেকে আসে ১১৫ বলে ১৪১ রান, ১১ চারের সঙ্গে ছিল ৯ ছক্কা।
বিজয়ের সেঞ্চুরিটি ছিল লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার ২৫তম। এতে ২৪ সেঞ্চুরি করা তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ইমনও সেঞ্চুরির পর গতি বাড়িয়ে মোহামেডানকে চারশর ওপরে নিয়ে যান।
শেষ দিকে আফিফ হোসেন খেলেন ৩৩ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৪ ছক্কা। আনিসুল ইসলাম ১৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে দলকে আরও বড় সংগ্রহে পৌঁছে দেন।
জবাবে আবাহনীর শুরু ভালো হয়নি। সাব্বির হোসেন ১৯, জিসান আলম ৫ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৯ রান করে ফিরলে চাপে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তবে অনিক সরকার এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান। ৩৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে তিনি অপরাজিত থাকেন ৬৪ বলে ৮৫ রানে। সাব্বির রহমান অপরাজিত ছিলেন ২২ বলে ২৪ রানে।
আবাহনী যখন ৪ উইকেটে ১৭৮, তখন বজ্রপাতের কারণে খেলা বন্ধ হয়। পরে বৃষ্টি নামায় আর মাঠে নামা হয়নি দুই দলের। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বৃষ্টি আইনে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত হয়।
জয়ের পর উৎসবে মেতে ওঠেন মোহামেডানের ক্রিকেটার ও সমর্থকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠেই আনন্দে ভাসেন সাদা-কালোরা।
বাংলাদেশের ক্লাব ক্রিকেটে আবাহনীর সাম্প্রতিক আধিপত্যের মাঝে এই শিরোপা মোহামেডানের জন্য বড় প্রত্যাবর্তন। বিজয়-ইমনের ব্যাট, আফিফের ঝড় আর বৃষ্টি আইনের হিসাব মিলিয়ে ২০০৯-১০ মৌসুমের পর আবার চ্যাম্পিয়ন হলো ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান।