ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইতিহাস গড়ে ফেলল আইভরি কোস্ট। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছে আইভরিয়ানরা। নান্তেসে অনুষ্ঠিত একটি প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্ট ২-১ গোলে জিতেছে। এই জয় আইভরিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিশেষ জায়গা পেয়ে গেছে।
এই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল দুই ভাই। গুয়েলা দুয়ে আইভরি কোস্টের হয়ে খেলেছেন। তার ছোট ভাই দেজিরে দুয়ে ফ্রান্সের হয়ে বেঞ্চে বসে ছিলেন। গুয়েলা লিগ ওয়ানের ক্লাব স্ট্রাসবুর্গের একজন ডিফেন্ডার। তিনি জন্মেছিলেন ফ্রান্সের আঁজেরে। তার বাবা আইভরিয়ান হওয়ায় তিনি আইভরি কোস্টকে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে তার ছোট ভাই দেজিরে দুয়ে (২১) পিএসজির একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তিনি মায়ের দেশ ফ্রান্সকে বেছে নিয়েছেন।
ম্যাচের শুরুটা ছিল ফ্রান্সের মতোই। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে প্রথমার্ধে ফ্রান্স পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু আইভরির গোলকিপার ইয়াহিয়া ফোফানা দারুণ খেলেছেন। মাত্র সাত মিনিটে এমবাপ্পের তিনটি সুযোগ ছাড়াও মার্কাস থুরাম ও মাইকেল অলিসের সুযোগও ঠেকিয়ে দেন তিনি। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে রায়ান চেরকি একটি ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জাল কাঁপিয়ে দেন।
বিরতির পর ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশঁ দলে অনেক পরিবর্তন আনেন। এমবাপ্পে, অলিস, শুয়ামেনি, থেও হার্নান্দেজ, উপামেকানো... সবাইকে বেঞ্চে বসিয়ে দেওয়া হয়। এতে ফ্রান্সের খেলার মানও পড়ে যায় খানিকটা। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় আইভরি কোস্ট।
৫৩ মিনিটে নিকোলাস পেপে একটি চমৎকার পাস দেন। গুয়েলা দুয়ে সেই পাস পেয়ে গোলকিপার মাইক মিয়াঁনের সামনে একা পড়ে যান। তিনি ভুল করেননি। স্কোর হয় ১-১।
এরপর ম্যাচ ড্র হয়ে যাওয়ার মতো মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৮৫ মিনিটে গুয়েলা দুয়ে ডান দিক দিয়ে দৌড়ে একটি নিখুঁত ক্রস দেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়াল্লো সেই বলে প্রথম স্পর্শেই জাল কাঁপান। ফাইনাল স্কোর হয় ১-২।
এই জয়ে আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও ভালো হলো। তারা বিশ্বকাপে জার্মানি, ইকুয়েডর ও কুরাসাওর সঙ্গে একই গ্রুপে আছে। আর ফ্রান্সের শেষ নয়টি ম্যাচে আট জয় ও এক ড্রয়ের অটুট রেকর্ড ভেঙে গেল।
শীর্ষনিউজ