Image description

ইরানের ফুটবল দলকে ঘিরে ভিসা জটিলতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা কাটছেই না। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র ৮ দিন বাকি। অথচ এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ভিসা হাতে পায়নি ‘টিম মেল্লি’। তবে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন আশা করছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সব জটিলতার সমাধান হবে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে মেক্সিকোর ভিসা পাওয়া যাবে। এরপর শুক্রবারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও ইস্যু করা হবে বলে আশাবাদী তারা।

ইরানি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাজ বলেন, ‘শনিবার আমরা স্পেনের উদ্দেশে রওনা হবো। সেখান থেকে দল সরাসরি মেক্সিকোর তিহুয়ানায় যাবে। মঙ্গলবার কিংবা তার পরদিন আমরা মেক্সিকোর ভিসা পাবো এবং এরপর দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে।’

নিরাপত্তা শঙ্কায় বদলেছে ক্যাম্পের ভেন্যু

 

বিশ্বকাপের আগে ইরানের প্রস্তুতি ক্যাম্প মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশন সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায় ক্যাম্প করবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মেক্সিকোর ভিসার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপে ইরানের সূচি

 

 

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে।

* ১৫ জুন: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, সানফ্রান্সিকো বে এরেনা, ক্যালিফোর্নিয়া
* ২১ জুন: বেলজিয়ামের বিপক্ষে, সানফ্রান্সিকো বে এরেনা, ক্যালিফোর্নিয়া
* ২৬ জুন: মিশরের বিপক্ষে, সিয়াটল

প্রথম দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ক্যালিফোর্নিয়ার ইনগেলউডে। শেষ ম্যাচটি হবে সিয়াটলে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা

গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যদিও যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগের আলোচনা চলছে, তবুও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। এ অবস্থায় নিরাপত্তা, ভ্রমণ এবং কূটনৈতিক বিষয়গুলো ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ফিফা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, ইরান পূর্ণাঙ্গভাবেই বিশ্বকাপে অংশ নেবে।

ভিসা ইস্যুতে নতুন বিতর্ক

ইরানের প্রতিনিধিদলের ভিসা প্রসঙ্গটি আরও আলোচনায় আসে গত এপ্রিল মাসে। তখন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজের কানাডার ভিসা বাতিল করা হয়।

এর কারণ হিসেবে তার অতীত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। তাজের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র- দুই দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলের ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের এক শুনানিতে রুবিও বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা এমন কাউকে প্রতিনিধিদলে ঢুকতে দেবো না, যাদের খেলাধুলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং যারা আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা হবে বলে মনে করি না।’

 

তুরস্কে চলছে অনুশীলন

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই জাতীয় দল তুরস্কের আনাতোলিয়া শহরে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপের আগে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে ইরানকে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিরাপত্তা শঙ্কা ও ভিসা জটিলতার মাঝেও দলটি এখন বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার অপেক্ষায়।