Image description

আগের দিন পাকিস্তানি ব্যাটারদের আউট করতে হিমশিম খেতে হয়েছিল তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজদের। দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং কোচও বলেছিলেন, পেসাররা এলোমেলো বোলিং করেছেন এবং উইকেটে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না।

 

কিন্তু একদিনের ব্যবধানেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তৃতীয় সকালে যেন সম্পূর্ণ নতুন রূপে দেখা যায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে।

তাসকিন ও মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানি ব্যাটাররা হয়ে ওঠে দিশেহারা।

 

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হলো—তা ব্যাখ্যা করেছেন ১৪ বারের পাঁচ উইকেটশিকারি মিরাজ, ‘আমাদের বোলারদের একটাই পরিকল্পনা ছিল—কিভাবে রান আটকানো যায় এবং সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করা যায়।

আমরা মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে জানি। আজ সবাই শুধু এক জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছে।
প্রত্যেক বোলারকে একই মেসেজ দেওয়া হয়েছিল, যেন সবাই ধারাবাহিক থাকে।’

 

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৭ রানে দিন শেষ করে, আর সব মিলিয়ে লিড দাঁড়ায় ৩৪ রানে। মিরাজের মতে, ম্যাচ এখনো পুরোপুরি ওপেন। মিরাজের মনে করেন দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০০ রান করতে পারলে ভালো সম্ভাবনা থাকবে, ‘এখনো দুই দিন বাকি আছে। রেজাল্ট এখনো ফিফটি-ফিফটি। আমরা বেশি লিড পাইনি, তাই ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। মিরপুরে কত রান নিরাপদ বলা কঠিন। তবে আমার মতে ২৯০/৩০০ রান ভালো স্কোর হতে পারে।’

আগের দিনের একটি উইকেটের সঙ্গে রবিবার যোগ করেন আরও চারটি উইকেট। একে একে তুলে নেন সাউদ শাকিল, আব্দুল্লাহ ফজল, নোমান আলী এবং শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আউট করে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘উইকেটে খুব বেশি স্পিন ছিল না। আমি আর তাসকিন দুই প্রান্ত থেকে ভালো লাইন-লেন্থে বল করেছি। আমরা পার্টনারশিপ বোলিং করেছি। তারা ভুল করেছে, আর সেটাই সুযোগ তৈরি করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে আপনি যদি সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করেন, সুযোগ আসবেই। তাসকিন টাইট বোলিং করেছে, আমি উইকেট পেয়েছি। আবার আমি টাইট রেখেছি, তাসকিন উইকেট পেয়েছে। এই জুটিটাই আমাদের সফল করেছে।’