Image description

ডিপিএলের উদ্বোধনী দিন সেঞ্চুরি পাননি কোনো ব্যাটারই। আজ অবশ্য পেয়েছেন ২ ব্যাটার। তবে অভিজ্ঞতা দুজনের দুই রকম। রেকর্ড সেঞ্চুরি করেও জয়ের হাসি হাসতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

বিপরীতে সামিউন বশিরের ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে। সেঞ্চুরির পর ৩ উইকেট নিয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। সঙ্গে ম্যাচসেরাও হয়েছেন।  

 

রেকর্ড সেঞ্চুরি করেও হার দেখলেন মোসাদ্দেক

ব্যাটিংয়ে নামার আগে দ্রুতই তিন সতীর্থকে ড্রেসিংরুমের পথ ধরতে দেখলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

এমন পরিস্থিতে হাল ধরবেন এটাই স্বাভাবিক। আবার দলের অধিনায়কও তিনি। তবে হাল ধরার জন্য তার হাতে যথেষ্ট ওভার বাকি ছিল না। কেননা বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ২৭ ওভারে নেমে আসলে তিনি ব্যাটিংয়ে নামেন ১৪.৩ ওভারের সময়।
 

 

তাই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে বাধ্য হলেন মোসাদ্দেক। সিটি ক্লাবের বোলাররা তাকে বাধ্য করে যেন ভুলই করে ফেললেন। কেননা ক্রিকেট একাডেমিতে যে আজ তাদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন আবাহনীর অধিনায়ক। কতটা বিধ্বংসী ছিলেন তিনি সেটা তার অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস বলে দিচ্ছে। তিন অংক স্পর্শ করার পথে রেকর্ড বই উল্টাপাল্টা করেছেন তিনি।

 

ডিপিএলে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করে মাশরাফি বিন মর্তুজার রেকর্ড ভেঙেছেন মোসাদ্দেক। ২০১৬ সালে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে খেলা বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। অন্যদিকে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের হিসেব ধরলে বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান মোসাদ্দেক। ২০২৩ সালে বিসিএল ওয়ানডেতে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে সমান ৪৯ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন উত্তরাঞ্চলের ওপেনার হাবিবুর রহমান।

১০ ছক্কা ও ৬ চারের রেকর্ড সেঞ্চুরি করেও জয়ের হাসি হাসতে পারেননি মোসাদ্দেক। তার সেঞ্চুরি ও জিশান আলমের ৫৪ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২০৯ রান করেছিল আবাহনী। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ বল বাকি থাকতেই জিতে যায় সিটি ক্লাব। ২ উইকেটের জয়ে সিটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী মারুফ। ৩ ছক্কা ও ৮ চারে ৭১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। তবে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয়ে দারুণ অবদান রেখেছেন উইকেটরক্ষক তাজিবুল ইসলাম।

টানা দ্বিতীয় জয় প্রাইম ব্যাংকের

ডিপিএলে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। প্রথম ম্যাচে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে হারানোর পর আজ গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৩২ রানের জয় পেয়েছে।

বৃষ্টির কারণে ৩৬ ওভারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে শাহাদাত হোসেনের ৭৫ ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ২০১ রানের লক্ষ্য দেয় প্রাইম ব্যাংক। তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৬৯ রানে থামে গুলশান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ওপেনার মমিনুল ইসলাম তন্ময়। 

জয়ের দেখা পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের দেখা পেল অগ্রণী ব্যাংক। ঢাকা লেওপার্ডসকে ৩১ রানে হারিয়েছে তারা। প্রথমে ব্যাটিং করে জোড়া ফিফটিতে ২৪৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অগ্রণী ব্যাংক। অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের ৬৪ রানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেছেন জাহিদ জাভেদ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লেওপার্ডসের প্রথম চার ব্যাটার কমপক্ষে ২০ রানের ইনিংস খেলে শুরুটা ভালো করলেও পরাজয়ই দেখেছে তারা।  ২১৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন তিনে নামা সৈকত আলী। অগ্রণীর হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন রবিউল হক ও আরিফ আহমেদ।

সামিউনের সেঞ্চুরিতে বড় জয় লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের

বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে এবার মুদ্রোর উল্টো পিঠটাও  ‘উপহার’ দিলো লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ। জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বসুন্ধরাকে ৮৩ রানে হারিয়েছে রূপগঞ্জ। 

প্রথমে ব্যাট করে সামিউন বশিরের সেঞ্চুরিতে বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে রানের পাহাড় গড়ে রূপগঞ্জ। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ৩৫৮ রান করে। ১০ ছক্কা ও ৬ চারে ১১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন সামিউন। অন্যদিকে ফিফটি পেয়েছেন আইচ মোল্লা (৬২) ও তানভীর হায়দার (৫৬)।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বসুন্ধরার প্রথম ৮ ব্যাটার দুই অংকের ঘর স্পর্শ করলেও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। সবমিলিয়ে ২৭৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন জিয়াউর রহমান।  সেঞ্চুরির পর ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন সামিউন।

রূপগঞ্জ টাইগার্সকে উড়িয়ে দিয়েছে গাজী গ্রুপ

লক্ষ্য বেশ বড়ই ছিল। ২৮৬ রান তাড়া করতে নেমে তাই যেন চাপে নুয়ে পড়ল রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব। ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়াকে আর কি-ই বা বলা যায়। এতে ১৮২ রানের জয় পায় গাজী গ্রুপ।

 প্রতিপক্ষকে অল্পতে অলআউট করতে বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেন রুবেল ও আজিজুল হাকিম রনি। রনির ৩ উইকেটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪টি নেন রুবেল। বিশাল জয়ের আগে গাজীকে বড় সংগ্রহ এনে দেন দুই ফিফটিয়ান মুনিম শাহরিয়ার ও সাব্বির হোসেন। সাব্বিরের ৭২ রানের বিপরীতে ৯২ রান করেন মুনিম।

জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন হৃদয়

২১০ রানের লক্ষ্য খুব বড় ছিল না। তবে তাড়া করতে নেমে ৫০ রানে ৩ উইকেট হারায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সেখান থেকে দলকে আর পেছনে তাকাতে দেননি তাওহিদ হৃদয়। সামনে থেকেই দলের জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহামেডানের অধিনায়ক।

তাইবুর রহমানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ জুটি গড়ে ৫ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন হৃদয়। তবে জয় নিয়ে দুজনের কেউই মাঠ ছাড়তে পারেননি। তাইবুরের ৭৪ রানের বিপরীতে ৮২ রান করেন হৃদয়। 

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ২০৯ রানে অলআউট হয় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন সোহাগ গাজী।