Image description

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু দলসংখ্যা বাড়ার কারণে আলাদা নয়। এই আসরে বদলে যাচ্ছে গ্রুপ পর্বের হিসাবও। আগে অনেক সময় গ্রুপে তৃতীয় হওয়া মানেই বিদায়। কিন্তু এবার ১২টি গ্রুপের সেরা আট তৃতীয় দলও যাবে নকআউট পর্বে। অর্থাৎ গ্রুপে তৃতীয় হলেও স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে না।

 

এই নিয়ম ছোট ও মাঝারি শক্তির দলগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। কারণ বড় দলের বিপক্ষে এক হার মানেই আর সব শেষ নয়। একটি ড্র, একটি কম ব্যবধানে হার, এমনকি গোল ব্যবধানও পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

ধরুন কোনো দল প্রথম ম্যাচে হেরে গেল। আগের ফরম্যাটে তাদের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যেত। কিন্তু এবার তারা যদি দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করে এবং শেষ ম্যাচে জেতে, তাহলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলের লড়াইয়ে থাকতে পারে। এমনকি ৩ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধান ভালো থাকলে আশা বাঁচতে পারে।

 

এখানেই বদলে যাবে কোচদের ভাবনা। বড় দলের বিপক্ষে সব সময় খোলা ফুটবল খেলতে হবে, এমন নয়। অনেক দল হয়তো বলবে, ‘হারলেও কম ব্যবধানে হারতে হবে।’ কারণ গোল ব্যবধান এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। এক ম্যাচে ৪-০ বা ৫-০ হার শুধু সেই ম্যাচের ক্ষতি নয়, পুরো গ্রুপের স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে।

 
 

 

এই নিয়ম ছোট দলগুলোর কৌশলেও প্রভাব ফেলবে। কুরাসাও, পানামা, জর্ডান, নিউজিল্যান্ড বা কাতারের মতো দলগুলো জানে, তাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচ জেতা কঠিন। কিন্তু এক পয়েন্ট, একটি গোল, বা গোল ব্যবধান ধরে রাখা, এগুলোই তাদের নকআউট স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

 

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কিছু ম্যাচে খুব ডিফেন্সিভ ফুটবল দেখা যেতে পারে। ছোট দলগুলো হয়তো নিচে নেমে রক্ষণ সামলাবে, অযথা ঝুঁকি নেবে না, আর সুযোগ পেলে পাল্টা আক্রমণ বা কর্নার-ফ্রি কিক থেকে গোল খুঁজবে। দর্শকের চোখে সেটা সব সময় সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল নাও হতে পারে, কিন্তু টুর্নামেন্টের হিসাব অনুযায়ী সেটিই হতে পারে সবচেয়ে বুদ্ধিমান পথ।

 

বড় দলগুলোর জন্যও নিয়মটা সহজ নয়। আগে তারা ভাবতে পারত, ছোট দলকে হারালেই হলো। এবার শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ গ্রুপের অবস্থান, নকআউটের পথ এবং পরের প্রতিপক্ষ, সবকিছুতে গোল ব্যবধান ভূমিকা রাখতে পারে।

 

এই ফরম্যাট আরেকটি জিনিস বাড়াবে, শেষ ম্যাচের নাটক। একটি গ্রুপের তৃতীয় দল শুধু নিজের গ্রুপের ফলের ওপর নির্ভর করবে না, অন্য গ্রুপের তৃতীয় দলগুলোর ফলও দেখতে হবে। ফলে এক মাঠের একটি গোল অন্য মাঠের একটি দলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

 

এটাই ৪৮ দলের বিশ্বকাপের নতুন বাস্তবতা। বড় দলগুলোর জন্য পথ বড়, ছোট দলগুলোর জন্য দরজা খোলা, আর দর্শকদের জন্য হিসাব আরও জটিল।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে তাই গ্রুপ পর্ব শুধু কে প্রথম, কে দ্বিতীয়, সেই গল্পে আটকে থাকবে না।
তৃতীয় দলগুলোর লড়াইও হতে পারে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়গুলোর একটি।