Image description

চলতি বাংলাদেশ ফুটবল লিগে রীতিমতো ধুঁকছে মোহামেডান। ১০ দলের লিগে ১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে সাত নম্বরে। তলানির আরামবাগের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট এগিয়ে। অবনমন ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে মোহামেডান কর্তারা ছাঁটাই করেছে কোচ আলফাজ আহমেদকে। ক্লাবের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও আলফাজ ভাবনায় তার বকেয়া সম্মানী নিয়ে। আগামীর সময়-এর মুখোমুখি হয়ে আলফাজ দিয়েছেন সাদা-কালোর ব্যর্থতার ব্যাখ্যা।

প্রশ্ন: ক্লাবের সিদ্ধান্তে কি অবাক হয়েছেন?
আলফাজ: মোটেই না। বিশ্বজুড়েই ব্যর্থ হলে কোচদের চাকুরি যায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তাই এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই।
প্রশ্ন: দুঃসময়ে মোহামেডানের দায়িত্ব নিয়ে ১৪ বছর পর শিরোপা জিতিয়েছিলেন (ফেডারেশন কাপ)। এরপর ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এনে দিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। অথচ এখন লিগ চলা অবস্থায় সরে যেতে হলো। এত সাফল্য এনে দেওয়ার সম্মানটা কি পেলেন?
আলফাজ: সম্মান ছাড়ুন, সম্মানীটাই তো ঠিকঠাক পাইনি ক্লাব থেকে! সম্মানী না পেয়েই তো কাজ করলাম এতদিন। ১০ মাসের চুক্তি ছিল। যা মে মাসে শেষ হওয়ার কথা। এখন ৯ মাস চলছে। পেয়েছি মাত্র ২ মাসের বেতন। আজ যে অব্যাহতি পত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে বকেয়া বেতন কখন, কীভাবে পাবো, তার কিছুই উল্লেখ নেই। আশা করছি ক্লাব কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সম্মানীটা পরিশোধ করবে।
প্রশ্ন: মোহামেডানের আর্থিক সংকট, বেতন বকেয়া রাখা তো নতুন ঘটনা নয়...
আলফাজ: শুরু থেকেই তো সংকটের মধ্যে ছিল ক্লাব। নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নিয়েছে দলবদলের চার মাস পরে। লিগ শিরোপা ধরে রাখতে যেমন দল গড়া উচিত ছিল, সেটা সম্ভব হয়নি। উল্টো তিলে তিলে গড়ে তোলা দলটা এবার ভেঙে গেছে। যারা খেলছেন, স্থানীয়রা ৬০ শতাংশ বেতন পেয়েছে। বিদেশিদেরও বেতন বকেয়া আছে। এ অবস্থায় তাদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করা কঠিন ছিল।
প্রশ্ন: বেতন বকেয়া থাকা বড় সমস্যা। তারপরও এতটা কেন খারাপ হলো দলের পারফরম্যান্স?
আলফাজ: গত মৌসুমে শিরোপা জয়ে যে ক’জনের বড় অবদান তাদের অনেককেই এবার রাখা যায়নি। তাছাড়া বিদেশি যারা ছিলেন, এক মোজাফফরভ ছাড়া কেউই ভালো খেলেনি। গত মৌসুমে রহমতগঞ্জের হয়ে লিগে সর্বোচ্চ গোল করা স্যামুয়েল বোয়েটাং মোহামেডানে এসে একেবারে হারিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে আসলে দলটা ভালো করেনি।
প্রশ্ন: ক্লাবের অভিযোগ, আপনি নাকি নিজের পছন্দের বাইরের কোনো খেলোয়াড়কে খেলার সুযোগ দেন না। সত্যি নাকি?
আলফাজ: এরকম অভিযোগ হাস্যকর। কোনো কোচ কি ভালো খেলোয়াড়দের বসিয়ে ম্যাচ খেলায়? আমার দলে এমন একজনের কথা বলেন তো, যাকে বসিয়ে রেখে তারচেয়ে খারাপদের খেলানো হয়েছে। কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো ক্লাব কর্তার কাছে গিয়ে অভিযোগ করে, তাকে খেলানো হয় না, সেটা তো সেই কর্তা আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। এ ধরনের অভিযোগ আসলে অসত্য। যা হোক, দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।