দায়িত্ব হারানোর রাতে সংবাদমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেখানে বর্তমান অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আইসিসির কাছে অভিযোগ জানান। আজ সকালে সেই চিঠি আইসিসিকে পাঠিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাহায্য চাওয়া বুলবুল আপাতত আইনি পথে হাঁটতে চান না। সদ্য সাবেক হওয়া পরিচালক সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে আইনি পথে হাঁটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চান।
তবে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে, সেটা নিয়ে আছে নানান প্রশ্ন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সিদ্ধান্তে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙে গঠন করা হয় অ্যাডহক কমিটি। ফলে আইনি পথে হাঁটলে আদালতের রায় ক্ষমতাচ্যুত বিসিবি পরিচালকদের পক্ষে আসবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান আছেন তারা। পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত একাধিক পরিচালক জানান, এনএসসি তাদের ক্ষমতাবলে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন। ফলে আইনি পথে হাঁটলে তাতে কার্যকর কোনো সমাধান আসার সম্ভাবনা কম।
বিসিবি থেকে সাত পরিচালক পদত্যাগের পর শেষ পর্যন্ত বিসিবিতে ছিলেন ১৮ পরিচালক। এনএসসি তাদের ২৮ ধারা মোতাবেক ভেঙে দিয়েছে পরিচালনা পরিষদ। এখন এই ১৮ জন পরিচালকের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা ধরে রাখাটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তার বোর্ডের পরিচালকরা। আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দেওয়া বুলবুল পরিচালকদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা কতটা ধরে রাখতে পারবেন তা নিয়েও খানিকটা সন্দিহান অনেকে। একাধিক পরিচালক প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সতীর্থ বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন না। সেটাও ক্ষমতাচ্যুত পরিচালকদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাবেক বোর্ড পরিচালক।
তাদের মতে, বিসিবিতে ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্দিষ্ট একটি গণ্ডির মধ্যে আটকে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া খুব বেশি সাবেক পরিচালকের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করেন না। ফলে তাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেতে পারেন এটা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। দৈনিক আমার দেশ-এর সঙ্গে কথা বলা একাধিক সাবেক পরিচালক জানান, আমিনুল ইসলাম বুলবুল কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তারা ঠিকঠাক বুঝতে পারছেন না। এমনকি ক্ষমতা হারানোর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। সব মিলিয়ে একটু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন সদ্য সাবেক বোর্ড পরিচালকরা।
সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবেন, নাকি নিজেদের মতো করে আইনি পথে হাঁটবেন সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন তারা। তবে অতিদ্রুতই এ ব্যাপারে সঠিক দিকনির্দেশনা আসবে বুলবুলের পক্ষ থেকে সে আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা। শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটা দেখেই তারপর সদ্য সাবেক পরিচালকরা নিজেদের মতো করে এগোবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সিদ্ধান্ত কিংবা অন্য সদ্য সাবেক পরিচালকদের সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটা জানতে আরো অন্তত এক থেকে দুদিন অপেক্ষা করতে হবে তা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই।