নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে নতুন ১১ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুরে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির অফিসে আসেন তামিমের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি। পরে সেখানেই মিটিংয়ে বসেন তারা।
কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজীম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানী, রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহা।
সভায় সশরীরে ৬ জন এবং অনলাইনে যোগ দেন বাকি ৫ জন। রাত ৮টায় শুরু হয় এ বৈঠক। এরপর তামিমসহ আরও দুজন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। সভা শেষে কমিটির সদস্য তানজিল চৌধুরীকে বিসিবির স্পোকসপারসন বা মুখপাত্র করার কথা জানান সভাপতি তামিম। ফলে, বিসিবির নানা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তানজিলই গণমাধ্যমকে জানাবেন।
প্রথম সভায় নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তানজিল বলেন, ‘ব্যাংকের সিগনেটরি থাকতে হয়। ম্যানেজমেন্ট থেকে হেড অব ফিন্যান্স এবং সিইও থাকবেন। অন্য গ্রুপ থেকে আমাদের সভাপতি (তামিম) এবং ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন (সিগনেটরি হিসেবে)।’
তানজিল আরও বলেন, ‘আইসিসি এবং এসিসিতে প্রতিনিধিত্ব থাকতে হয় বোর্ড থেকে। আমাদের সভাপতি তামিম ইকবালকে মনোনীত করেছি। আইসিসি থেকে তারা আমাদের গাইড করেছেন, যেহেতু আমরা একটি অ্যাড-হক কমিটি, নির্বাচিত কমিটি না, তাই সিইও থাকলে ভালো হয়। সেটাও আজকে আমরা অনুমোদন করেছি।’
আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজ প্রসঙ্গে তানজিল বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি নিয়েও আমরা আপডেট নিয়েছি। আগামী সভায় বিস্তারিত আলাপ করব।’
উল্লেখ্য, বিসিবির বর্তমান অ্যাড-হক কমিটির পরের সভা বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। এ কারণে নির্বাচনের আগেই নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ক্লাবের প্রতিনিধিরা।
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তদন্তে নামে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। পরে গত রবিবার অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে জমা দেয়। এর মাত্র দু’দিনের মধ্যেই বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।