তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক রহস্যময় পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তার ওই পোস্টে সরাসরি কিছু উল্লেখ না থাকলেও অনেকেই সেটিকে বিসিবির নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ফলে, দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে।
এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির অভিযোগ, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছেও এ বিষয়ে জানায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন অ্যাডহক কমিটি গঠনের ব্যাপারেও আইসিসিকে জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির পরিচালক আমিনুল এহসান বলেন, 'জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এই অবস্থানে উপনীত হয়েছে যে বর্তমান বিসিবি কমিটি গঠনে বিসিবি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণের দুর্বলতা ছিল, অনিয়ম ছিল। সেই প্রেক্ষিতে এনএসসি ইতোমধ্যে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির নিকট একটি ইমেইল পাঠিয়েছে। সেই ইমেইলে এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।'
এদিকে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজীম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানী, রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহা।
অন্যদিকে দায়িত্ব হারানোর পর অনেকটাই নীরবে 'হোম অব ক্রিকেট' প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন সদ্য সাবেক সভাপতি বুলবুল। গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে চাইলেও সাড়া দেননি তিনি; বরং দ্রুতই গাড়িতে উঠে সেখান থেকে চলে যান।
এ ছাড়া আজই সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির অফিসে আসেন তামিমের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিটিংয়ে বসেন তারা।
এর আগে, গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। এ কারণে নির্বাচনের আগেই নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ক্লাবের প্রতিনিধিরা। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তদন্তে নামে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
পরে গত রবিবার অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে জমা দেয়। এর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।