বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা দল ও তাদের মহাতারকা লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ এবং ‘অর্থ আত্মসাৎ’-এর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরহিমান। তার দাবি, ম্যাচ খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুরো অর্থ বুঝে নিলেও শেষ পর্যন্ত কেরালায় খেলতে আসেনি আলবিসেলেস্তেরা। এই ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার এবং মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কেরালার একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবদুরহিমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কেরালায় আনা ছিল তাদের একটি আবেগপূর্ণ ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। তিনি জানান, 'আমি সত্যিই চেয়েছিলাম মেসি ও আর্জেন্টিনা দল কেরালায় আসুক। এজন্য আমরা অনেক আলোচনা করেছি। তাদের মতো বড় দলকে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ২৫০ কোটি টাকা স্পনসরদের কাছ থেকে জোগাড় করা সহজ ছিল না। কিন্তু টাকা বুঝে পাওয়ার পর তারা আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে।'
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৭ নভেম্বর কোচির জওহরলাল নেহরু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। সেপ্টেম্বরে এএফএ-র প্রতিনিধিরা মাঠ পরিদর্শনও করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নানা জটিলতায় ম্যাচটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ক্রীড়ামন্ত্রীর দাবি, এটি কেবল কেরালার ক্ষেত্রে নয়, আরও পাঁচটি দেশের সাথে আর্জেন্টিনা একই কাজ করেছে। টাকা নিয়েও তারা ম্যাচ খেলতে যায়নি।
উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে লিওনেল মেসি লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পলকে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তবে সেটি ছিল একটি বাণিজ্যিক ‘গোট ট্যুর’, কোনো জাতীয় দলের ম্যাচ নয়। কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লিতে ভক্তদের সাথে সময় কাটালেও কেরালায় জাতীয় দলের হয়ে খেলার সেই প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই থেকে যায়।
ক্রীড়ামন্ত্রী আবদুরহিমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেরালা সরকার এই বিষয়টি সহজে ছেড়ে দেবে না। তিনি বলেন, “তারা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা তদন্ত করে দেখেছি তারা অন্য দেশেও এমনটা করেছে। এখন সময় এসেছে মামলা করার এবং তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের।”