খেলাধুলাকে কেবল শখ বা বিনোদন নয়, বরং একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পেশা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেখানে খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে সাবিনা খাতুন বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজেদের জন্য মাঠের দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘অলমোস্ট ডান।’
দুটি সাফ ও প্রথমবার ফুটসাল জয়ী অধিনায়ক সাবিনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন, ‘সংবর্ধনা পাওয়াটা আমাদের জন্য সবসময় গর্বের ও আনন্দের। সে ক্ষেত্রে দেশের প্রধান যারা ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন, অভিভাবক হিসেবে কাজ করছেন—তাদের কাছ থেকে যখন এভাবে সম্মান পাই, তখন তা আমাদের আরও অনুপ্রেরণা জোগায়। সকল ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে বলতে চাই, এটা আমাদের জন্য অনেক সম্মানের। এটি আমাদের আরও উজ্জীবিত করে। দেশের পতাকা যখন বুকে ধারণ করি, তখন একটাই কথা মাথায় আসে—দেশের সম্মান। এ ক্ষেত্রে ফেডারেশনগুলো এবং আমাদের বাবা-মা ও পরিবারের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ।’
এরপরই ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার ব্যক্তিগত দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে বলতে চাই, আমরা প্রথমবার ফুটসালে অংশ নিয়ে ভালো ফল করেছি। কিন্তু সেই জায়গায় আমাদের কোনও ফুটসাল মাঠ নেই। এ নিয়ে আমি ক্রীড়া মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের যেন একটি মাঠের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি সবাই আমাদের দিকে খেয়াল রাখবেন, যাতে আমরা আরও সাফল্য নিয়ে আসতে পারি।’
সাবিনার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই চেয়ারেই বসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সাবিনা, তোমার যে মাঠের দাবিটা—আমরা এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে কাজটা শেষের দিকে। মেয়েরা যেন নিরাপদ জায়গায় খেলতে ও অনুশীলন করতে পারে, সে জন্য মাঠ বাছাইসহ সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে। অলমোস্ট ডান। খুব শিগগিরই জানতে পারবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসে সাবিনার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক ফুটে ওঠে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।