টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করা, বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে সরকারের তদন্ত কমিটি গঠন, দুই পরিচালকের পদত্যাগ এবং সরকারের সাথে বোর্ডের শীতল সম্পর্ক—সব মিলিয়ে বিসিবি এখন টালমাটাল অবস্থায়। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল মনে করেন, বাইরে থেকে যা-ই মনে হোক না কেন, বোর্ডের ভেতরে কোনো সংকট নেই। সোমবার সকালে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন।
বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এনএসসির তদন্ত কমিটি গঠনকে অনেকেই বিসিবির স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এ প্রসঙ্গে বুলবুল বলেন, “আমরা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্বাধীনভাবে কাজ করি। আমাদের বিবৃতিতে সংঘাতের কোনো বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল একটি আগাম সতর্কতা। আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা যেন একে ‘সরকারি হস্তক্ষেপ’ হিসেবে ভুল না বোঝে, সেজন্যই আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি।”
বিসিবির একটি বিবৃতিতে এনএসসিকে বিষয়টি ‘ক্লোজ’ বা বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, “তদন্ত বন্ধ করার কথা বলা হাস্যকর। আমরা আইসিসি এবং এসিসির অধিভুক্ত হলেও দিনশেষে বাংলাদেশ সরকারের অধীনেই কাজ করি। অনুবাদে ভুলের কারণে হয়তো অনেকে একে তদন্ত বন্ধের অনুরোধ হিসেবে দেখেছেন।”
বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতির মাঝে দুই পরিচালকের পদত্যাগ নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। তবে বুলবুল একে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, “তাঁরা ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তবে আমরা এখনো তা গ্রহণ করিনি। তাঁদের সাথে আমাদের কথা হবে।”
ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রাণ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনো শুরু না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সভাপতি। তিনি বলেন, “আম্পায়ার, মাঠ, স্কোরার সব প্রস্তুত। আমরা শুধু ক্লাবগুলোর জন্য অপেক্ষা করছি। ক্রিকেটারদের এই আয়ের পথ বন্ধ থাকাটা আমাদের জন্য কষ্টের।”
এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিসিবি সভাপতি সাফ জানিয়ে দেন যে, সেটি ছিল তৎকালীন সরকারের নির্দেশনা। তিনি বলেন, “আমি একজন ক্রিকেটার হিসেবে খুব করে চেয়েছিলাম দল খেলুক। কিন্তু সরকারের নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ আমাদের নেই। এখন যদি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ নিয়ে তদন্ত করতে চায়, সেটি তাদের বিষয়।”
সবশেষে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “বিসিবি তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। জাতীয় দল খেলছে, নারী দল শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুতরাং আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না।”