Image description

ফরাসি ফুটবলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ শেষে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। এমনটাই জানিয়েছে ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন।

জানা গেছে, ৫৩ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা কোচ মৌখিকভাবে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। সব কিছু চূড়ান্ত হলে তিনি বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হবেন। দেশম দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্সের ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসও ফ্রান্সের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরের বরাতে জানিয়েছে, বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হতে মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন জিদান। আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ শেষে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দেশমের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ২০১২ সালে ফ্রান্স কোচের দায়িত্ব নেন দেশম।

ইএসপিএন জানিয়েছে, ফ্রান্স কোচ হিসেবে জিদানের চুক্তিতে সই করার আগে এখন শুধু শেষ মুহূর্তের কিছু খুঁটিনাটি বিষয় মিলিয়ে দেখা বাকি। বিশেষ করে তার কোচিং স্টাফে কতজন সদস্য থাকবেন এবং সেই দলের পরিধি কতটা বড় হবে, এখন মূলত সেটি নিয়েই আলোচনা চলছে।

কোচ হিসেবে জিদানের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে দুই দফায় (২০১৬-১৮ ও ২০১৯-২১) থেকে তিনি ক্লাবটিকে একাধিক বড় শিরোপা এনে দেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে জাতীয় দলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।

খেলোয়াড়ি জীবনেও জিদান ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি তিনি তিনবার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই ফ্রান্স জেতে ১৯৯৮ ফিফা বিশ্বকাপ, আর ২০০৬ সালের আসরে হয় রানার্স-আপ।

তবে জিদান বিখ্যাত হয়ে আছেন সেই ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে হেডবাট করে লাল কার্ড দেখার ঘটনাটির মাধ্যমে। সেই ঘটনা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।

সবকিছু ঠিক থাকলে বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়েই ফ্রান্স দলের নতুন যুগ শুরু হবে জিদানের হাত ধরে।