Image description

২১ বছর বয়সী মাইকা হামানোর দুর্দান্ত এক গোলে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো মেয়েদের এশিয়ান কাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে জাপান। শনিবার রাতে সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৭৫ হাজার দর্শকের সামনে এই ঐতিহাসিক জয় পায় জাপানিজ মেয়েরা।

 

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে চেলসি থেকে ধারে টটেনহ্যামে খেলা ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক জোরালো শটে বল জালে জড়ান। এই এক গোলের লিডই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে জাপান। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া (ম্যাটিল্ডাস) সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায়, কিন্তু জাপানের রক্ষণভাগ ছিল অটল। বিশেষ করে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে অ্যালানা কেনেডির হেড রুখে দিয়ে জাপানের জয় নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা।

ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ছিল (৫৪%)। তারা মোট ১৪টি শট নিলেও জাপানের নিখুঁত রক্ষণের কারণে গোল পায়নি। বিপরীতে জাপান ৯টি শট নিয়ে কাজের কাজটি সেরে ফেলে।

 * বিগত সাফল্য: জাপান এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। গত চার আসরের মধ্যে এটি তাদের তৃতীয় শিরোপা।

 * কোচের মন্তব্য: জাপানের কোচ নিলস নিলসেন বলেন, "মেয়েরা তাদের সবটুকু দিয়ে লড়াই করেছে। আমরা পুরো টুর্নামেন্টে ৬টি ম্যাচই জিতেছি, তাই এই ট্রফিটা আমাদের প্রাপ্য।"

টুর্নামেন্টের রেকর্ড ও অর্জন

 * রেকর্ড দর্শক: ফাইনাল ম্যাচে ৭৪,৩৯৭ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে মোট ৩,৫৫,৫২৭ জন দর্শক মাঠে খেলা দেখেছেন।

 * বিশ্বকাপের যোগ্যতা: এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে এশিয়া থেকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন এবং উত্তর কোরিয়া আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

জাপান এই পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিল। তারা ৬ ম্যাচে মোট ২৯টি গোল দিয়েছে এবং হজম করেছে মাত্র ১টি। এশিয়ার এক নম্বর দল হিসেবে তারা আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল।