বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ শেষ। কিন্তু বিতর্কিত এক রান আউট নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ােমে গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজের করা সালমান আলী আগার ওই রান আউটের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। এবার সেই রান আউট নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)।
ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থাটি পাকিস্তানি ব্যাটার সালমানকে দায়ী করে মিরাজের পক্ষ নিয়েছে। তবে তারা এটাও জানিয়েছে, স্পিরিট অব ক্রিকেটের (ক্রিকেটীয় চেতনা) বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ দল চাইলে আপিল তুলে নিতে পারত।
ম্যাচের ৩৯তম ওভারের ঘটনা সেটি। মিরাজের বল মিড অনের দিকে খেলেন মোহাম্মাদ রিজওয়ান।
নন স্ট্রাইক প্রান্তে সালমান ছিলেন ক্রিজের বাইরে। সেখান থেকে চেষ্টা করেন মিরাজকে আড়াল করতে যেন বল লং অনের দিকে যেতে পারে। কিন্তু সালমানের পেছন থেকেই পা দিয়ে বল ঠেকিয়ে দেন মিরাজ।
এরপর দুজনই বল নিতে উদ্যত হন। কিন্তু মিরাজ দ্রুত বল তুলে থ্রো করে স্টাম্পসের বেল ফেলে দেন। মিরাজ এতে রান আউটের আবেদন জানালে টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনা তাতে সাড়া দেন।
এক বিবৃতিতে এমসিসি জানিয়েছে, আম্পায়াররা সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বলটি তখনো খেলার মধ্যে ছিল এবং স্টাম্প ভাঙার সময় ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান আলী আগা।
এমসিসি বরং এতে সালমানের দায় দেখছে। তারা আরো উল্লেখ করেছে, সালমান যখন বল তুলতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড (ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া) আউট হওয়ার ঝুঁকিতেও ছিলেন। এমসিসির মতে, ওই সময় বল তোলার চেষ্টা না করে সালমানের ক্রিজে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল।
এমসিসি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, বলটিকে ‘ডেড’ বিবেচনা করার কোনো সুযোগ ছিল না। এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরেক খেলোয়াড় ধাক্কা লাগলে বা সংঘর্ষ হলে বল ডেড হয় না। গুরুতর চোট না থাকলে বা সবাই খেলা থেমে গেছে বলে ধরে না নিলে বল ‘ডেড’ ধরা যায় না। এখানে মিরাজ স্পষ্টভাবেই খেলা চলা অবস্থায় বলটি ধরেছেন।