Image description

সংযুক্ত বিশ্বে সহনশীলতা শক্তিশালীকরণ—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৭ মে সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬’। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) উদ্যোগে উদযাপিত এই দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

বার্তার তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও জাতিসংঘ। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—ডিজিটাল লাইফলাইন: সংযুক্ত বিশ্বে সহনশীলতা শক্তিশালীকরণ।

বার্তায় বলা হয়, দুর্যোগের সময় ডিজিটাল নেটওয়ার্ক আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেয়, জরুরি সেবাদানকারীদের সহায়তা করে এবং হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবাগুলো সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এসব ‘ডিজিটাল লাইফলাইন’ হতে হবে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং সবার জন্য সহজলভ্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বহু জনগোষ্ঠী এখনও ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো সাইবার হামলা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ুজনিত সংকট তীব্র হওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে বৈষম্য বাড়ায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বার্তায় সমুদ্রতলের ক্যাবল, স্যাটেলাইট, স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগ, উন্মুক্ত মানদণ্ড এবং ডিজিটাল দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ‘গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট’ বাস্তবায়ন, অধিকারভিত্তিক এআই নীতিমালা প্রণয়ন এবং সরকার, শিল্পখাত ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

গুতেরেস আরও বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো এখন একটি অপরিহার্য জনসম্পদ। তাই ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় এটিকে আরও টেকসই ও সহনশীল করে গড়ে তুলতে হবে। নিরাপদ ও সর্বজনীন ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠী দুর্যোগ মোকাবিলা, সাড়া প্রদান এবং পুনরুদ্ধারে আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।