দীর্ঘদিন গোলখরায় থাকা এবং ফিটনেস নিয়ে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হওয়া নেইমার জুনিয়র ফিরলেন রাজকীয়ভাবে। বৃহস্পতিবার ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে সান্তোসের ২-১ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তাকে 'ফুরিয়ে যাওয়া' খেলোয়াড় ভাবলে ভুল হবে। এই পারফরম্যান্স ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াডে তার ফেরার সম্ভাবনাকেও জোরালো করেছে।
৩৪ বছর বয়সী এই উইঙ্গার সর্বশেষ গোল করেছিলেন গত ডিসেম্বরে। হাঁটুর অস্ত্রোপচার থেকে ফেরার পর এটি ছিল এই বছরে তার মাত্র তৃতীয় ম্যাচ। ম্যাচ শেষে 'স্পোর্ট টিভি'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন: "গত সপ্তাহেও তারা বলছিল আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়। আজ আমি দুই গোল করেছি, দিনশেষে এটাই আসল কথা। ফুটবল এমনই—একদিন আপনি খুব খারাপ বা 'বাতিল' খেলোয়াড়, আর পরের দিনই মানুষ বলবে আপনাকে বিশ্বকাপে নিতেই হবে।"
পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকা নিয়ে নেইমার আরও যোগ করেন, "এই বছর এটি আমার মাত্র দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ। শেষের দিকে কিছুটা ক্র্যাম্প (মাংসপেশিতে টান) অনুভূত হচ্ছিল, তবে এটি প্রক্রিয়ারই অংশ। আমি ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছি।"
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) বরাত দিয়ে ‘মুন্দো দোপার্তিভো’ জানিয়েছে, নেইমারের পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী মে মাসের শেষ পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপরই আসন্ন বিশ্বকাপ দলে তাকে রাখা বা না রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ম্যাচগুলোতে নেইমারকে না-ও ডাকা হতে পারে।
ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি নাকি অভ্যন্তরীণভাবে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, যাতে নেইমারকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় দেওয়া হয়। কারণ একটাই- ‘নেইমার মানে নেইমার’। তার অভিজ্ঞতা আর সামর্থ্য নিয়ে কারও, এমনকী আনচেলত্তিরও কোনো সংশয় নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে ঘিরে মূল প্রশ্ন একটাই—তিনি শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারবেন কিনা।