টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের অবস্থান ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপর শাস্তির প্রশ্নে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি। তার মতে, সরকার নির্দেশ দিলে সেটি মানার কারণে পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।
ভারতীয় গণমাধ্যম স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এহসান মানি বলেন, অতীতেও একই যুক্তিতে ভারত পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেনি, তখন আইসিসি কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সাবেক এই আইসিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে দ্বিমুখী নীতি চলতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এই আচরণের মাধ্যমেই আইসিসি যেকোনো দেশকে সরকারের দোহাই দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন পিসিবির চেয়ারম্যান নিজেই সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী।’
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়েছে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পাকিস্তান দল শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি পেয়েছে।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পরই পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। জানুয়ারিতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি। সেই সিদ্ধান্তের পর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা তখন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে বিভিন্ন বিশ্বকাপেও সরকারিভাবে ম্যাচ বর্জনের নজির রয়েছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে কলম্বো সফর না করায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ না খেলে পয়েন্ট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হারারে গিয়ে খেলেনি ইংল্যান্ড, আর নিরাপত্তার কথা জানিয়ে কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবি সফর বাতিল করেছিল নিউজিল্যান্ড।