Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭৮। এর বাইরে ১ জন প্রার্থী হিজড়া জনগোষ্ঠীর। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নারী প্রার্থীদের হলফনামা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের ৬০ জনই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩০। পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ নারী কর্মজীবী।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭৮, অর্থাৎ মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ৪ শতাংশের কম। দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬১ নারী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১৭ জন।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং শাসনপ্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারবিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন গত ২৮ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে তথ্য উপস্থাপন করে জানান, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। ওই নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিলেন ১০১ জন, যা মোট প্রার্থীর ৫ শতাংশের বেশি। নারী প্রার্থীর বাইরে হিজড়া ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী ছিলেন দুজন। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় জানান, ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত নারী প্রার্থীর হার ১ শতাংশের নিচে ছিল। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ (জুন মাসে অনুষ্ঠিত) নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ১ শতাংশের ওপরে আসে। ২০০১ সালে ২ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৫ শতাংশের বেশি ও ২০১৮ সালে প্রায় ৪ শতাংশ নারী প্রার্থী ছিল।

নারী প্রার্থীদের হলফনামা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের ৬০ জনই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩০। পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ নারী কর্মজীবী।

সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্য হচ্ছিল না। একপর্যায়ে ন্যূনতম ৫ শতাংশ আসনে নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মত হয় ২৬টি দল ও জোট। নারী অধিকারকর্মীদের আপত্তির মুখেও এবারের নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম ৫ শতাংশ মনোনয়নের ব্যবস্থা রেখে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়। তবে বড় দলের মধ্যে বিএনপি ১০ নারীকে, অর্থাৎ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। জামায়াতসহ ৩০টি দল কোনো আসনে নারীদের মনোনয়ন দেয়নি।

জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ অনুসারে, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে বিদ্যমান ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে। ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সবাই সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত রাখবে দলগুলো। এ বিষয়ে ২৬টি দল সম্মতি দেয়। নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে ৪টি দল।

এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ প্রথম আলোকে বলেন, ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা গর্ববোধ করছেন এই বলে যে এলাকায় যোগ্য নারী প্রার্থী রয়েছেন।

কোন দলে কত নারী প্রার্থী

নির্বাচনী প্রচারে নারী প্রার্থীরা
নির্বাচনী প্রচারে নারী প্রার্থীরাছবি: কোলাজ

দলগুলোর নারী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে বিএনপির ১০ জন, জাতীয় পার্টির ৬, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ৯, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ৬, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৫, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫, গণসংহতি আন্দোলনের ৩, গণফোরামের ৩, গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) ৩, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ১, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ১, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ১, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ১, নাগরিক ঐক্যের ১ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ১ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৭ জন।

পেশিশক্তি, ক্ষমতার সঙ্গে নারী প্রার্থী টিকতে পারবেন কি না, সেই হিসাব-নিকাশ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে। তবে এ মানসিকতার পরিবর্তনও কিছুটা হচ্ছে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার

ভোটার নারী প্রার্থী পছন্দ করছেন

ভোটাররা নারী প্রার্থীদের পছন্দ করছেন, ভোট চাইতে গেলে স্বাগত জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা গর্ববোধ করছেন এই বলে যে এলাকায় যোগ্য নারী প্রার্থী রয়েছেন। এটা তাঁকে খুব আনন্দ দিচ্ছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের কারণে নানা বাধার মুখে পড়ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

নাবিলা বলেন, তাঁর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, লুটপাট হচ্ছে, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। প্রশাসন তাঁদের কাছে প্রমাণ চাইছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি মনে করেন।

ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার প্রথম আলোকে বলেন, পেশিশক্তি, ক্ষমতার সঙ্গে নারী প্রার্থী টিকতে পারবেন কি না, সেই হিসাব-নিকাশ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে। তবে এ মানসিকতার পরিবর্তনও কিছুটা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অনেক ভোটারের মধ্যে নারী প্রার্থীর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখছেন, যা তাঁকে আশাবাদী করে তুলছে।

বাসদের ৫ নারী প্রার্থীর একজন বরিশাল-৫ আসনের মনীষা চক্রবর্ত্তী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁদের দলের নারী প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের নারীর চেয়ে রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। সাংগঠনিক কাজই তাঁদের সেই পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো কোনো প্রার্থীর নারীবিদ্বেষী বক্তব্য তাঁদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তিনি একটি টেলিভিশনের নির্বাচনী আলোচনায় প্রার্থী হিসেবে ছিলেন। এক প্রার্থী নারীর সামনে আসবেন না জানালে ওই টেলিভিশন চ্যানেলের কর্তৃপক্ষ তাঁকে (মনীষাকে) সরিয়ে দিয়েছিল।

এবি পার্টির নাসরীন সুলতানা পেশায় আইনজীবী। তাঁর দল জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য করেছে। তিনি ঢাকা-১০ থেকে প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তাঁকে সমর্থন দেয়নি। ভোটাররা নারী প্রার্থীদের স্বাগত জানান উল্লেখ করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অনেক দল নারীদের প্রার্থী না করার পেছনে নিরাপত্তার অজুহাত দেয়, অথচ নির্বাচনী প্রচারে তারা ঠিকই নারীদের সামনের সারিতে রাখে।

বাসদের ৫ নারী প্রার্থীর একজন বরিশাল-৫ আসনের মনীষা চক্রবর্ত্তী। বললেন, তিনি একটি টেলিভিশনের নির্বাচনী আলোচনায় প্রার্থী হিসেবে ছিলেন। এক প্রার্থী নারীর সামনে আসবেন না জানালে ওই টেলিভিশন চ্যানেলের কর্তৃপক্ষ তাঁকে (মনীষাকে) সরিয়ে দিয়েছিল।

উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী নারীর প্রাধান্য

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুসারে, ৭৮ নারীর মধ্যে ৭৭ জনের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। প্রার্থীদের মধ্যে ৫১ জন কর্মজীবী। এ হার ৬৫ শতাংশ। কর্মজীবী নারী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ১৬ জন, শিক্ষানবিশসহ আইনজীবী ১০, টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করেন ৬, উদ্যোক্তা ৩, কৃষিকাজ ৪, শিক্ষক ৩, চিকিৎসক ৩, উন্নয়নকর্মী ২, রাজনৈতিক প্রশিক্ষক ১, বেসরকারি চাকরিজীবী ২ ও কণ্ঠশিল্পী ১ জন। এ ছাড়া রাজনীতিবিদ ৬ জন, সমাজকর্মী ২, ছাত্রী ৫ ও অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ২ জন রয়েছেন। এর বাইরে ১১ জন গৃহিণী। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মোছা. মল্লিকা খাতুন পেশা হিসেবে কিছু উল্লেখ করেননি।

কর্মজীবী নারী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ১৬ জন, শিক্ষানবিশসহ আইনজীবী ১০, টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করেন ৬, উদ্যোক্তা ৩, কৃষিকাজ ৪, শিক্ষক ৩, চিকিৎসক ৩, উন্নয়নকর্মী ২, রাজনৈতিক প্রশিক্ষক ১, বেসরকারি চাকরিজীবী ২ ও কণ্ঠশিল্পী ১ জন।

টিউশনিকে পেশা হিসেবে যে ছয়জন উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে একজন শাহিনুর আক্তার সুমি। তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) হয়ে ঢাকা–৫ আসনের প্রার্থী হয়েছেন। হলফনামায় তিনি লিখেছেন স্নাতকোত্তর। মাসে টিউশনি করে আয় করেন ২৬ হাজার টাকা। তাঁর নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বশিক্ষিত ৩ জন, অষ্টম শ্রেণি পাস ১, মাধ্যমিক পাস ৩, উচ্চ মাধ্যমিক পাস ৮, স্নাতক ২৪, ফাজিল পাস ১, স্নাতকোত্তর ৩৫, চিকিৎসা বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ১, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১ জন আর অন্য ১ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রার্থীদের মধ্যে কারও কারও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে দুটি। যেমন গাজীপুর–২ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সরকার তাসলিমা আফরোজের এমএ (ইংরেজি) এবং এলএলএম ডিগ্রি রয়েছে। পেশায় তিনি আইনজীবী।

শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বশিক্ষিত ৩ জন, অষ্টম শ্রেণি পাস ১, মাধ্যমিক পাস ৩, উচ্চ মাধ্যমিক পাস ৮, স্নাতক ২৪, ফাজিল পাস ১, স্নাতকোত্তর ৩৫, চিকিৎসা বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ১, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১ জন আর অন্য ১ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকে অর্থ, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্র, সোনা বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরের তৈরি গয়নার বিবরণ ঘরে ‘প্রযোজ্য নয়’ লিখেছেন।

নগদ অর্থে সম্পদশালী মানিকগঞ্জ–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। পেশায় ব্যবসায়ী এই নারী হলফনামায় নগদ অর্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৪১ লাখ টাকা। হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক এই নারী সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি মামলা চলমান। আর আগে চারটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে দুটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, দুটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফরিদপুর–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলামের ১টি মামলা চলমান থাকলেও আগের মামলার সংখ্যা অনেক বেশি, ১৭। এগুলোর মধ্যে ৮টি প্রত্যাহার, ৮টিতে অব্যাহতি ও ১টি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে কম বয়সী ২৫ বছর, বেশি বয়সী ৭৬

প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম ২৫ বছর বয়সী তিন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন নরসিংদী–৫ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহমিনা আক্তার, একই দলের ঢাকা–১৩ আসনের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া ও বাসদ থেকে কুমিল্লা–৬ আসনের প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী।

এ ছাড়া ২৬ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ২৭ জন, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ২৭, ৫১ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ১৭ ও ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন।

ময়মনসিংহ–৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী। তাঁর বয়স ৭৬ বছর ৮ মাস। স্নাতকোত্তর পাস আখতার সুলতানা পেশায় শিক্ষক। তাঁর নগদ অর্থ রয়েছে ৫৪ লাখ টাকা। ব্যাংকের তথ্য ‘প্রয়োজ্য নয়’ লিখেছেন।

দ্বিতীয় বেশি বয়সী নারী মেহেরুন নেছা খান হেনা। হলফনামা অনুসারে তাঁর বয়স ৭২ বছর ১১ মাস। তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে নরসিংদী-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএ পাস এই নারী জানান, তাঁর নগদ অর্থ রয়েছে ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ব্যাংকে রয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। আর আড়াই কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে।

ময়মনসিংহ–৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরীর বয়স ৭০ বছর। নোয়াখালী–১ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী রেহানা বেগমের বয়স ৭০ বছর ৭ মাস।

ময়মনসিংহ–৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী। তাঁর বয়স ৭৬ বছর ৮ মাস। স্নাতকোত্তর পাস আখতার সুলতানা পেশায় শিক্ষক। তাঁর নগদ অর্থ রয়েছে ৫৪ লাখ টাকা। ব্যাংকের তথ্য ‘প্রয়োজ্য নয়’ লিখেছেন।

কোনো কোনো প্রার্থী সোনাসহ মূল্যবান ধাতুর গয়না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করলেও কেউ কেউ হলফনামায় কিছু লিখেননি। দেড় ভরি, ১০ ভরি, ২০ ভরি থেকে ৬০ ভরি গয়না থাকার কথা উল্লেখ করেছেন কেউ। যেমন এবি পার্টির একমাত্র নারী প্রার্থী নাসরীন সুলতানা পেশায় আইনজীবী। তিনি হলফনামায় লিখেছেন তাঁর ৬০ ভরি গয়না রয়েছে। নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ টাকা ও ব্যাংকে রয়েছে ১ লাখ টাকার বেশি।

শেরপুর–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী পেশায় চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন জানান, তাঁর ৬০ ভরি গয়না রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর–৪ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী তানিয়া রব পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ৫০ ভরি গয়না আছে।

এবি পার্টির একমাত্র নারী প্রার্থী নাসরীন সুলতানা পেশায় আইনজীবী। তিনি হলফনামায় লিখেছেন তাঁর ৬০ ভরি গয়না রয়েছে।

ঢাকায় উচ্চশিক্ষিত, কর্মজীবী বেশি

রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে ১৭ নারী প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী। এই প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর ১০ জন, স্নাতক ৩, এসএসসি ১, স্বশিক্ষিত ১ ও ছাত্রী ১ জন। এর বাইরে ঢাকা–৮ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় স্পষ্ট কিছু লিখেননি। ‘বিশেষায়িত পেশাগত প্রশিক্ষণ সনদপ্রাপ্ত’ লিখেছেন। তিনি পেশা হিসেবে ‘রাজনৈতিক প্রশিক্ষক’ উল্লেখ করেছেন।

স্নাতকোত্তর প্রার্থীদের মধ্যে একজন এমফিল ডিগ্রিধারী। তিনি হলেন ঢাকা–১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার। পেশা হিসেবে তিনি লিখেছেন শিক্ষক ও আলোকচিত্রী।

রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে ১৭ নারী প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী।

আশাবাদী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারও কারও নির্বাচনের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। রংপুর-৬ আসনে তাকিয়া জাহান চৌধুরী ২০২৪ সালের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আগেরবার ভোট সুষ্ঠু হয়নি। এবার ভোট সুষ্ঠু হবে আশা করছেন। মাঠে গিয়ে ভোটারদের সমর্থনও পাচ্ছেন। অনেকে কোনো দলকে ভোট দিতে চাইছেন না, তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী পছন্দ করছেন।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা ফরিদ পেশায় উদ্যোক্তা। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার প্রার্থী হয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

এবার নির্বাচনে একমাত্র হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করছেন মোছা. আনোয়ারা ইসলাম রানী। রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একই আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এবার দারুণ পরিবেশ। ভালোই লাগছে। আবার ভয়ও লাগছে। আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি, এখানে পেশিশক্তি দেখা যাচ্ছে। মারামারি, দ্বন্দ্ব–সংঘাত দেখা যাচ্ছে।’ আনোয়ারা অষ্টম শ্রেণি পাস। তাঁর পেশা ব্যবসা। নগদ আছে দেড় লাখ টাকা। ব্যাংকে ২৪ লাখ টাকার বেশি রয়েছে।

এবার নির্বাচনে একমাত্র হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করছেন মোছা. আনোয়ারা ইসলাম রানী। রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একই আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন।

যোগ্যতা–দক্ষতায় নারীরা এগিয়ে

শাসনপ্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারবিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন প্রথম আলোকে বলেন, নারী প্রার্থীরা যোগ্যতা ও দক্ষতায় অনেক এগিয়ে। তবে দুঃখজনক যে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে দলগুলো মনোযোগী নয়। ৫ শতাংশ নারীর মনোনয়ন ছিল ন্যূনতম। সেটিও রাজনৈতিক দলগুলো রাখেনি, এটা হতাশাজনক। এবার ৩০টি দল কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। অনেক দলভাবে সংরক্ষিত আসন তো আছেই। এই ভাবনা ভুল। নারীর নেতৃত্ব বিকাশে সংরক্ষিত আসন কোনো ভূমিকা রাখে না।

নারী প্রার্থীরা যোগ্যতা ও দক্ষতায় অনেক এগিয়ে। তবে দুঃখজনক যে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে দলগুলো মনোযোগী নয়।
শাসনপ্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারবিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন

মীর নাদিয়া নিভিন আরও বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সংরক্ষিত আসন কাজে লাগছে কি না, সে মূল্যায়ন করতে দেখা যায়নি। রাজনীতি করেন এমন নারীদের মনোনয়ন দেওয়া উচিত। সর্বদলীয় একটি নারী কমিটি থাকা দরকার। এই কমিটি নারীর বিষয়গুলোতে দলগুলোকে চাপে রাখবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে দলগুলোর সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব না থাকলে সেই দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা উচিত।