Image description

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক মার্ক বুচার। আইসিসির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থার বড় ব্যর্থতার উদাহরণ।

উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে বুচার বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি ‘একটা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’। তিনি ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি না খেলতে পাকিস্তানে যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘটনার তুলনা টানেন।

বুছার বলেন, ‘এই ঘটনার আগে এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেগুলোর সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ইস্যু। সবাই জানত, ভারত পাকিস্তানে যাবে না এবং শেষ পর্যন্ত তাদের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করা হলো। ক্রিকেট ইতিহাসে বহুবারই টুর্নামেন্টের সূচি ও কাঠামো বদলানো হয়েছে কোনো একটি দলকে মানিয়ে নিতে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে হচ্ছে, সেটা নজিরবিহীন।

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইসিসির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সাবেক ব্যাটার। তার মতে, ভারতের ক্ষেত্রে যে সমাধান বের করা হয়েছিল, সেটিই ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারত।

তিনি বলেন, ‘যখন কোনো দল…হোক সেটা সরকারের সিদ্ধান্তে বা নিজেদের কারণে…নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে কোনো দেশে যেতে চায় না, তখন দুটি পথ থাকা উচিত। হয় তারা খেলবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নয়তো সরে দাঁড়াবে এবং পরের দল সুযোগ পাবে।

সেটাই হওয়া উচিত ন্যায্য ও স্বচ্ছ পথ।’

 

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ২৪ জানুয়ারি আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এই সিদ্ধান্ত আসে ঠিক এক বছর পর, যখন ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সময় আইসিসি, বিসিসিআই ও পিসিবির সমঝোতায় ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হয়।

একই সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সব ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

বুছার আরও বলেন, ‘আমি জানি সবাই ভারতের মতো অবস্থানে নেই। সেটা স্পষ্ট। কিন্তু ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা কোথা থেকে বেশি অর্থ আসে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। পাকিস্তান এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ তারা বলেছিল বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে। এখন প্রশ্ন হলো…তারা কী করবে? আমার মনে হয়, তারা সরে দাঁড়াবে না। এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।’

পুরো পরিস্থিতিকে ‘জঘন্য বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বুচার বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে হলে স্পষ্ট নীতি দরকার। তার ভাষায়, ‘আপনি যদি মনে করেন টুর্নামেন্ট বা আয়োজক দেশ নিয়ে আপনার সমস্যা আছে, তাহলে সিদ্ধান্তটা আপনার। হয় খেলবেন, নয়তো সরে দাঁড়াবেন। মাঝামাঝি কোনো পথ থাকা উচিত নয়। এটিই একমাত্র ন্যায্য সমাধান।’