হাসান ইসাখিল ব্যাটিং করলেন তার বাবা মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে। কোনো শীর্ষ স্তরের টি-টোয়েন্টি লিগে একসঙ্গে ব্যাট করা প্রথম বাবা-ছেলে জুটি তারা। এই ইতিহাস গড়ার দিনে বিপিএলে ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন ইসাখিল।
গতকাল (রোববার) ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ৯২ রান করেন ইসাখিল। প্রথমবার দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ম্যাচ খেললেন তিনি। টসের আগেই বাবা নবী তার ছেলেকে হাজির করেন। নোয়াখালী তাদের ২০তম খেলোয়াড়কে নিয়ে বাজিমাত করল। ম্যাচ শেষে প্রত্যাশিতভাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইসাখিল। এসে জানান, বাবা তার আইডল হলেও তাকে কপি করেন না।
যদিও ইসাখিলের মাঝে বাবার ছায়া বেশ স্পষ্ট। নবীর মতোই তিনিও ব্যাটের বেশ নিচের দিকে গ্রিপ ধরেন এবং তার ব্যাটিংয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গিটি বেশ সাবলীল। বলের বাউন্স পুরোপুরি হওয়ার আগেই শট খেলার প্রতি তার ঝোঁকও বেশ লক্ষণীয় ছিল। যদিও তিনি স্কয়ার কাট এবং ফ্লিক শট খেলার মাধ্যমেই তার ইনিংস শুরু করেছিলেন। এছাড়া তার একটি পুল শট নবীর ব্যাটিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার আইডল কে এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো কিছু না ভেবেই ইসাখিল বললেন, ‘আমার বাবা’।
ইসাখিল বলেন, ‘আমি আমার ব্যাটিং দেখিনি। আমি কপি করিনি। আমার বন্ধুরাও বলে তুমি তোমার বাবাকে কপি করছো। তবে এটা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। আমাদের বন্ডিং বন্ধুর মতো। আমরা ক্রিকেট নিয়ে সবই শেয়ার করি।’
বাবা অলরাউন্ডার হলেও ইসাখিল কেন সেদিকে ঝুঁকলেন না, বিষয়টি খোলাসা করলেন তিনি, ‘আমি বল করতে পছন্দ করি না। আমার ফোকাস ব্যাটিংয়ের দিকেই। আমি দুই আড়াই ঘণ্টা ব্যাট করে যেতে পারব। আমরা বিপিএলে ভালো ভালো স্মৃতি তৈরি করছি। বাড়িতে প্র্যাকটিসেও আমাকে সহায়তা করেন, আমিও উনাকে করি।’
বাবার হাত ধরে জাতীয় দলে খেলতে চাওয়া ইসাখিল বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি আগে এভাবে কখনো সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে আসিনি। আমি মনোযোগ রেখেছিলাম ক্রিকেট আর ক্যারিয়ারেই। কোনো সাক্ষাৎকার দিতাম না। হ্যাঁ এটা আমার স্বপ্ন, বাবার সাথে জাতীয় দলে খেলব। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার চেষ্টা করছি।’