Image description

আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। আন্তর্জাতিক এই কূটনীতিকের প্রশ্নও, ‘আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি—একটি দেশকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তার ধর্মকে।’’মোস্তাফিজের জায়গায় লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হলে কি একই সিদ্ধান্ত নিতো বিসিসিআই।‘

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভারতের বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্টিদের তোপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা মেনে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাউডার্স। গত মাসে নিলামে বাংলাদেশের এই পেসারকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে টেনেছিল শাহরুখ খানের দলটি।

রাজনীতিকে খেলাধুলার সঙ্গে মেশানোর বিপক্ষে শশী থারুর। সাংবাদিকদের শনিবার তিনি বলেন,  ‘আমি সত্যিই মনে করি না যে ক্রিকেটকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ভার বহন করতে দেওয়া উচিত। আমার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—আমাদের উচিত কিছু ক্ষেত্রকে অন্য ক্ষেত্র থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান একজন ক্রিকেটার, যার এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্কই নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঘৃণাসূচক কথা, হামলা বা এমন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন কিংবা ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য কখনো অভিযুক্ত হননি। তিনি একজন ক্রীড়াবিদ আর এ দুটি বিষয়কে মিশিয়ে ফেলাটা অনুচিত।’

এমন আচরণে ভারত ভবিষ্যতে প্রতিবেশীহীন হয়ে পড়তে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন থারুর।

‘যদি ভারত এমন দেশ হয়ে যায় যে তার সব প্রতিবেশী দেশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বলে যে কারও সঙ্গেই তাদের খেলা উচিত নয়, তাতে কোনো উপকার হবে না। এ বিষয়ে আমাদের বড় মন ও হৃদয় থাকতে হবে।’

একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন লিটন বা সৌম্যের ক্ষেত্রেও একই আচরণ করা হতো কিনা।

‘এ বিষয়ে আমার মতামত আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি—বিশেষ করে এখন, যখন বিসিসিআই নিন্দনীয়ভাবে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি খেলোয়াড়টি যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে কী হতো? এখানে আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি—একটি দেশকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তাঁর ধর্মকে? খেলাধুলাকে এভাবে নির্বিচার রাজনৈতিক রঙে রাঙানো আমাদের শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে?’