অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ও প্রথম মুসলিম টেস্ট ব্যাটার তিনি। উসমান খাজা বেশ বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ারই কাটিয়েছেন। তবে শেষ দিকে এসে পথটা কঠিন হয়ে পড়ে তার। ব্যাটে রান আসছিল না, দল থেকেও বাদ পড়েই গিয়েছিলেন।
ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ঘটে গেল আরেক ঘটনা। বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে হামলার ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ায় হঠাৎ ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব বেড়ে যায়। উসমান খাজাও এর আঁচটা টের পেয়েছেন।
তবে সেসব একপাশে রেখেই খাজা পারফর্ম করেছেন। অ্যাডিলেইডে কামব্যাক টেস্টে খেলেছেন ৮২ ও ৪০ রানের দুটো মূল্যবান ইনিংস। সেই অ্যাশেজ এখন শেষের পথে। রোববারের সিডনি টেস্ট খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন খাজা।
এই ঘোষণাটা তিনি দিয়েছেন এক সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে তিনি আসেন স্ত্রী র্যাচেল ও দুই মেয়েকে নিয়ে। ক্রিকেটের চেয়ে তিনি বেশি কথা বলেন নিজের অভিজ্ঞ বর্ণবাদ নিয়ে। খাজা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো তৃপ্তি। আমি খুব ভাগ্যবান যে এত ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পেরেছি। আশা করি, এই পথে আমি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।’
ইসলামাবাদ থেকে ছোট বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান খাজা। অনেক বাধা পেরিয়ে তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। এক সময় তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র এশিয়ান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। অনেকের কাছে তিনি সুযোগ তৈরির প্রতীক। তবে পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁকে বর্ণবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। তবু তিনি থামেননি। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে খাজা বলেন, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভিন্ন রঙের (অস্ট্রেলিয়ানদের চেয়ে) ছেলে। আমাকে বলা হয়েছিল, আমি কখনো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারব না। এখন আমাকে দেখো। তুমিও আমার মতো পারো।’
সিডনি টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খাজা খেলেছেন ৮৭টি টেস্ট। রান করেছেন ৬ হাজার ২০৬। সেঞ্চুরি ১৬টি। গড় ৪৩.৩৯। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩২ রান ছিল তাঁর সেরা ইনিংস। এরপর আর তিন অঙ্কের দেখা পাননি তিনি। রানের ধারাটাও বন্ধ হয়ে আসছিল। যার ফলে তার ওপর চাপ বাড়ছিল ক্রমেই। ৩৯ বছর বয়সে এসে আবার জাতীয় দলে ফেরার কথা ভাবাটাও কঠিন। উসমান খাজা ভাবেনওনি। অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিলেন এবার।