সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা নাহিদ রানা। অল্প কয়েকদিনেই নিজের দুর্দান্ত বোলিং আর গতিতে পুরো বিশ্বে নজর কেড়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তবে জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া চোট নাহিদকে ভোগাচ্ছে অনেক দিন ধরে।অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তার না খেলতে পারা হতাশ করেছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাইকে। এরপর সংযুক্ত আমিরাতে আফগানিস্তান টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজের পর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজও মিস করছেন তিনি। এই নাহিদ রানাকে অতিরিক্ত ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ও বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। জিম্বাবুয়ে সফরে পড়া চোট থেকে সেরা ওঠার পথে আবার নতুন করে চোটে পড়েছেন নাহিদ। অস্ট্রেলিয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে আপাতত সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। এর আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা, তালহা জুবায়েরের মতো পেসাররাও শুরুটা ভালো করলেও চোটের কারণে তাদের ক্যারিয়ার প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে ধারাভাষ্য দিতে বর্তমানে ঢাকায় আছেন ইয়ান বিশপ। বরাবরই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় অনুরাগী সাবেক এই ক্যারিবীয় পেসার। বারবার চোটে পড়া নাহিদকে সামলানোর ক্ষেত্রে ফিটনেস কোচ ও মেডিকেল টিমের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন বিশপ। নিজের চোটের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, দ্রুতগতির বোলারদের শরীরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রস্তুত করে তোলা জরুরি।বৃহস্পতিবার মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশপ বলেন, ‘বাংলাদেশের ভালো কোচ আছেন, ফিল সিমন্স খুব ভালো একজন কোচ। তিনি আমার কাছে বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। আমার বিশ্বাস, তিনি ভালোভাবেই জানেন, দ্রুতগতির বোলিং কতটা কঠিন ও শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। কিছু ক্রিকেটারের শরীর অন্যদের তুলনায় চোটে পড়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে। নিজের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের অভিজ্ঞতা থেকে আমি এটি জানি।’নাহিদের শরীরকে চোটের ঝুঁকি থেকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে শক্তি ও ফিটনেস বাড়ানোর অনুশীলনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মেডিকেল নিবিড় পর্যবেক্ষণও প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশপ।এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আমার কাছে অন্যতম সেরা উদাহরণ। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউডকে চোটের পর মেডিকেল টিম খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে। স্কট বোল্যান্ডসহ তাদের পেসাররা ৩৩, ৩৫, ৩৬ কিংবা ৩৭ বছর বয়সেও ভালো খেলছেন।’নাহিদকে সুস্থ রাখতে ফিটনেস ও চিকিৎসা—দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন বিশপ। তার আশা, সঠিক পরিচর্যায় একসময় নাহিদের শরীর দ্রুতগতির বোলিংয়ের ধকল সামলানোর মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।নাহিদকে নিয়ে তাড়াহুড়া না করার বিষয়ে সতর্ক করে বিশপ বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে যেটা বলতে চাই, তা হলো—তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুত সাফল্য পাওয়ার আশায় সেই সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে মেরে ফেলবেন না।’অস্ট্রেলিয়ায় গত আগস্টে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। এই সিরিজের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন নাহিদ। অথচ চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া যেতেও পারেননি তিনি।নাহিদ রানাকে খেলতে দেখার আগ্রহ ছিল বিশপেরও। কিন্তু চোটের কারণে সেখানে খেলতে পারেননি বাংলাদেশের এই পেসার। বিষয়টি নিয়ে বিশপের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘দুঃখজনক’ শব্দটির বদলে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। বিশপ বলেন, ‘এখানে “দুঃখজনক” শব্দটির চেয়ে “দুর্ভাগ্যজনক” বলাই ভালো। নাহিদের জন্য এটি দুর্ভাগ্যজনক। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সে বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাব্য সুপারস্টারদের একজন।’অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে নাহিদকে দেখার সম্ভাবনা তাকে রোমাঞ্চিত করেছিল বলে জানান বিশপ।বিশপ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি পিচে তাকে দেখার সম্ভাবনা আমাকে রোমাঞ্চিত করেছিল। তাই শেষ পর্যন্ত তাকে না দেখতে পারায় হতাশ হয়েছি। তবে তার সুস্থতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে হবে; তাড়াহুড়া করা যাবে না। কারণ দ্রুতগতির বোলিং শরীরের ওপর প্রচণ্ড চাপ ফেলে।’নাহিদকে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও বিশেষ এক পেসার হিসেবে দেখছেন বিশপ। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নাহিদের বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন একটি অধ্যায়ে ও নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আছে। গতি কিনতে পাওয়া যায় না। বিশ্বের প্রতিটি দলই নাহিদ রানার মতো একজন পেসার চায়। তাই তাকে সুস্থ রাখতে হবে।’