Image description

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পর আবারও হাই-ভোল্টেজ এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও স্পেন। উয়েফা নেশনস লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ‘এ৩’-এর এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক থ্রি লায়ন্সদের অভ্যর্থনা জানাবে বর্তমান বিশ্ব ও ইউরোপ সেরা স্পেন। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় ২৭ সেপ্টেম্বর (২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২:৪৫ মিনিটে) মাঠে গড়াবে।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত সদ্য সমাপ্ত ফিফা বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের পর মাঠে নামছে উভয় দল। থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তারা ৬-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছিল। অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে লণ্ডনে পা রাখছে। ওয়েম্বলিতে তাই দুই দলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অপেক্ষা।

ইংল্যান্ডের স্কোয়াড ও শক্তির জায়গা

 

বিশ্বকাপের পর তিন মাস না পেরোতেই স্কোয়াড নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন থমাস টুখেল। ইনজুরি ও অবসরের কারণে স্কোয়াডে নেই নিয়মিত পাঁচ তারকা ফুটবলার। কোল পালমার, ডেক্লান রাইস, মার্কাস রাশফোর্ড, কোবি মাইনু এবং টিনো লিভরামেন্টো ছিটকে গেছেন দল থেকে। এছাড়া লুইস হলের খেলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।

মাঝমাঠে ডেক্লান রাইসের অনুপস্থিতি এবং রক্ষণের দুর্বলতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। মিডফিল্ডের শূন্যতা পূরণে মরগান গিবস-হোয়াইট এবং জেমস গার্নারকে দলে ডেকেছেন কোচ। রক্ষণভাগে ট্রেন্ট-আর্নল্ডের জায়গায় রাইট-ব্যাক পজিশনে জারেল কোয়ানসারের থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে জুড বেলিংহাম ও বুকায়ো সাকার পাশাপাশি হ্যারি কেনের ওপরই মূল ভরসা রাখছেন কোচ টুখেল।

 

স্পেনের স্কোয়াড ও শক্তির জায়গা

অন্যদিকে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দারুণ ফর্মে আছে স্পেন। পেদ্রি, রদ্রি ও লামিনে ইয়ামালকে কেন্দ্র করে গড়া স্কোয়াডে নতুন মুখ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ইভান ফ্রেসনেদা ও রবার্তো ফের্নান্দেস। যদিও ইনজুরির কারণে গোলরক্ষক জোন গার্সিয়া এবং ফুল-ব্যাক পেদ্রো পোরোকে পাচ্ছে না তারা। তবে রদ্রি ও পেদ্রির বল পজেশন এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ স্প্যানিশদের বাড়তি সুবিধা দেবে। গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই ক্লিন শিট বজায় রাখা স্পেনের রক্ষণভাগ ভেদ করা সহজ হবে না তিন সিংহের দলের জন্য।

 

মুখোমুখি পরিসংখ্যান

দুই দলের এখন পর্যন্ত ২৮ বারের দেখায় জয়ের পাল্লা ইংল্যান্ডের দিকেই হেলে আছে। ইংল্যান্ডের ১৪ জয়ের বিপরীতে স্পেন জিতেছে ১১টিতে, এবং ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে দুই দলের সর্বশেষ দেখায় স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ইংল্যান্ড। তবে সাম্প্রতিক সময়ের পারফর্ম্যান্সে স্প্যানিশরাই বেশ আত্মবিশ্বাসী। ইংল্যান্ড ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থন পেলেও গোছানো ফুটবল ও শক্ত মিডফিল্ডের কারণে এই ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।