Image description

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরি। সেটিও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে। ইতিহাস গড়া ইনিংসটি নিজের বাবা-মাকে উৎসর্গ করেছেন তানজিদ হাসান তামিম।

 

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১৯৭ বলে ১০১ রান করেন তানজিদ। আটটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসে ভর করে দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে সফরকারীরা।

 

দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেঞ্চুরিটি কাকে উৎসর্গ করবেন জানতে চাইলে তানজিদ বলেন, ‘এভাবে চিন্তা করিনি। তবে যেহেতু এটি আমার জন্য বিশেষ একটি দিন, সেঞ্চুরিটা আমি আমার বাবা-মাকে উৎসর্গ করতে চাই।’

 

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতক করা দ্বিতীয় বাংলাদেশি তিনি। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে ১৩৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস।

 

নিজের অর্জনের পাশাপাশি দলের অবস্থান নিয়েও সন্তুষ্ট তানজিদ, ‘প্রথমত আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের খুব ভালো একটি দিন গেছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল সেশন ধরে ধরে এগোনো। ওরা খুব ভালো বোলিং করেছে। আমরা বাড়তি কিছু করার চেষ্টা করিনি।’

 

প্রথম দিন কোনো রান করার আগেই জীবন পেয়েছিলেন তানজিদ। দ্বিতীয় দিনে ৬২ রানে তাকে আরেকবার ফেরাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার পূর্ণ মূল্যই দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। মুমিনুল হকের সঙ্গে ১০২ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ।

 

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে খেলাই ছিল তার পরিকল্পনা। তানজিদ বলেন, ‘ওরা আমার বিপক্ষে ভিন্ন পরিকল্পনায় বল করেছে। বাউন্ডারির তেমন সুযোগ দেয়নি। তাই যতটা সম্ভব ধৈর্য ধরে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করেছি।’

 

নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলানো কঠিন ছিল বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার, ‘ওরা এক নম্বর দল, অবশ্যই কঠিন সময় দেবে। নতুন বলে ব্যাটিং কঠিন ছিল। আমরা শট খেলা কমিয়ে স্ট্রাইক বদল এবং জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি।’

 

টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার পর নিজের ভূমিকা সম্পর্কেও পরিষ্কার বার্তা পেয়েছেন তানজিদ। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন তিনি, ‘টেস্ট দলে আসার পর সবাই আমাকে কীভাবে খেলতে হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। আমি স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলা এবং নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’

 

 

শতক পূর্ণ করার অনুভূতি অবশ্য ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না ২৩ বছর বয়সী ব্যাটার, ‘মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এটি আমার জন্য খুবই বিশেষ।’

 

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগেভাগে সেখানে পৌঁছানো এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাও কাজে দিয়েছে বলে মনে করেন তানজিদ, ‘আমরা ১ আগস্ট এখানে এসেছি। কয়েকটি অনুশীলন সেশন করেছি, প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি। সেগুলো আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। এই কন্ডিশনে খেলতে আমার ভালো লাগে।’

 

দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটিতে বড় লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজ ৩২ ও হাসান ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। তৃতীয় দিনে যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করাই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।

 

তানজিদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, উইকেট ক্রমেই আরও ভালো হচ্ছে। আমরা যত বেশি সময় ব্যাট করতে পারব, দলের জন্য তত ভালো হবে।’