হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি ট্যাংকারে এই হামলা হয়।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে, ড্রোন হামলায় জাহাজ দুটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। এডিএনওসি জানিয়েছে, হামলায় কোনো কর্মী আহত হননি এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে সংযুক্ত আরব আমিরাত একে জাতিসংঘ সনদের নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে ‘জলদস্যুতা’ ও ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’-এর অভিযোগ এনেছে।
ইরান এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত জুনে সমঝোতা চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে নিজেদের অনুমোদিত রুট ছাড়া প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোতে হামলা শুরু করে ইরান। দেশটির দাবি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ সম্পদ ফেরত না দিলে এই হরমুজ উন্মুক্ত করা হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার নিউজমেক্সের ‘রব স্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানকে আরও কঠোর আর্থিক ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। আগামী সপ্তাহে নতুন ঘোষণার অপেক্ষা করুন। একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ইতিহাসে এ যাবৎকালের নজিরবিহীন সব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি আমরা।’
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পানামা সফরকালে জানান, জাহাজের রোটেশনের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ বজায় রাখতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামরিক হামলা বাড়ানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ওপরই বেশি জোর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা